Sunday, July 12, 2020

ভাল থেকো আমার ভাল বাসা তোমার প্রেমিকা দের নিয়ে পার্ট ২

আম্মা আমি এখন আমার লাইফ গুছাইতে চাই। আমাকে ছেড়ে দেন। আমার সবাধীনতা টুকু নিয়ে কেন আপ্নে এরকম করবেন? আম্মা আমি লেখিকা হতে চাই আমারে শুধু শুধু বিয়ে করতে বল্ বেন না। নাইমার কথায় তার মা মেয়ের গালে চড় দেন। মেয়ে হয়ে জন্মেছিস পরের ঘরে যাবার জন্য বিয়ের জন্য এইসব ছাই পাশ করে কি করতে পারবি? কত টাকা কামাই করবি? তার চেয়ে এই ছেলে ইঞ্জিনিয়ার তাকে আমার পছন্দ হয়েছে তুই একে বিয়ে কর। আম্মা আমি আপনার পা ধরি আমাকে বিষ দেন তাও আমি এরে বিয়ে করব না। আমাকে মানসিক ভাবে অত্যাচার ্করবেন না কে শুনে কার কথা মারের উপর মার চলে নাইমার উপর। তার দোষ সে নিজের পছন্দের কাউকে বিয়ে করবে আর নিজের সবাধীন মত কাজ করবে। আর পারে না নাইমা বিষ খেয়ে ফেলে তার মায়ের হাত থেকে বাচতে। সাথে সাথে থানা পুলিশ আর এম্বুলেন্স এসে হাজির । মা কে ধরে নিয়ে গেছে পারিবারিক নির্যাতনের জন্য। আর বাকি যারা ছিল তাদের ও জেরা করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জেলে। এটা যদি ইউ এস এ বা উন্নত দেশ হত বিচার সাথে সাথে হত। কিন্ত ব্যাপার টা সেইরকম নয় এখানে বিচার হয় নাই মাকে ছাড়ান হল কারন তিনি বলেছেন আমার মেয়ে আমি তার ভাল চাই কিন্ত এই ভাল চাইতে গিয়ে তিনি মেয়েকে মরে যাবার দিকে উ্দভুত কেন করলেন এই প্রশ্নের উত্তর তিনি সাংবাদিক দের দিতে পারে ্নাই। বাংলাদেশের অনেক মহিলা পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। প্রতি বছর নিজের মান সম্মানের খাতিরে এই ভাবে মেধাবি মেয়েরা নির্যাতিত হয়েই যাচ্ছেন দিনের পর দিন কিন্ত সামাজিক ভাবে যদি এদের বয় কট করা যেত তাহলে হয়ত বাংলাদেশের মেয়েদের আত্ন পরিচয় এর কিছু মুল্য দেয়া হত,সাংবাদিক টিভি চ্যানেলে বলছে। নাইমার মা ছাড়া পেল। কিন্ত নাইমা হাস পাতাল থেকে সোজা মর্গের দিকে । মারা গেছে। ডাক্তার এর ভাষ্য ছিল এত বেশি মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে যে সে এমন বিষ খেয়েছে যে যাতে বেচে না ফিরে! চিকিতসকের চোখে হতাশা। বুঝাই যাচ্ছে তিনি ্নাইমাকে বাচাতে যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। নাইমার লাশ দাফন হল তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তার মা কে আরো জেরার জন্য এর দুইদিন পর নিয়ে গেল পুলিশ। কেস টা ফিশি। তুমি কি বল জাহিদ? পুলিশ অফিসার আক্তার আলি বলছে ।স্যার কি যে বলেন প্রতিদিন যে পরিমান সুইসাইড কেস দেখি এর ভেতর এটা নরমাল। আপনি এর ভেতরে আবার রহস্য কি দেখলেন স্যার? জাহিদ তুমি কি মনে কর শুধু মাত্র মেয়েটা এই কারনে আত্নহত্যা করসে? আমার ত মনে হয় প্রেম ঘটিত কাহিনি আছে। স্যার, আজকালের বাচ্চারা এত সেন্সেটিভ হইসে যে অল্পতেই বিষ খায়। হুম। বুঝছি তুমি এটাকে সোজা ভাবে নিস কিন্ত একজন পুলিশের চোখ দিইয়ে দেখ সব ক্লিয়ার হবে। মা এর আচরন ও অসাভাবিক। আচ্ছা এই কেস কোন থানার ? বাড্ডা। জাহিদের উত্তর সাথে প্রশন কেন স্যার? আপ্নে কি এই কেস আবার আমাদের জন্য নিয়ে আসবেন কিনা? আক্তার আলি হাসি দিল। তার হাসি রহস্যময় হলেও জাহিদ স্যারের মনের কথা পড়ে ফেলেছে। সে মুখ কাল করে ফেলেছে। ১মাস ও হল না থানায় শান্তিতে আছে সে এই কেসের কারনে তাকে এখন দৌড়ের উপ্রে যেতে হবে আর আক্তার স্যার ত ঘুম হারাম করবেনই সাথে তারও। আরেকজনের কেস কেন স্যার নিজের কাধে নিবেন তার এটা জানা নাই ।মাঝে মাঝে তার স্যারের কান্ড কীর্তি দেখে চরম বিরক্ত লাগে কিন্ত কিছু বলা যাবে না। স্যারের হুকুম। প্রস্তুতি নিতে হবে । নাইমার ঘর। রং বেরঙ্গের জিনিসে ঠাসা। সেইখান থেকে এক্টা দায়েরি পায় পুলিশ। তারা সেটাকে নিয়ে যায় ইনভেস্টিগেশনের খাতিরে । সেখান থেকে তার কিছুই পায়নি তবে সাদা নীলের আকা ছবি আর অনেক গু্লো রঙ এর কম্বিনেশন এ আকা তার কিছু ছবি তারা পেয়েছে এটা কে তারা কিছুটা কাজের বলে মনে করছেন না কারন তার ডায়েরিতে লেখাজোকা কিছুই নাই। লাশের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এসে গেছে। লাশের গলায় ছিল তার দিয়া মারার চিনহ মারা যাবার আগ পর্যন্ত সে যে বাচার আশা করসে তা তার মায়ের অস্নগ্লগ্ন কথা বার্তায় স্পষ্ট। এই ব্যাপার গুলি নজরে আসছে পুলিশের । পুলিশ খুব চিন্তা করে করে এগুবে কারন ব্যাপার টা পারিবারি্রক। আমাদের দেশের মত দেশে পারিবারিক ভাবে কেউ নির্যাতিত হলে তার বিচার করা হয় না কারন এটাকে কেউ ব্যাপার বলে গন্য করে না। এই জন্য খুব সুক্ষ ভাবেই চিন্তা করতে হচ্ছে আরন লাশের উপর এ মারের চিনহ ছিল ।তাকে কিভাবে মারা হয়েছে আর এর জন্য কে দায়ি এটাই চিন্তার মা ছাড়া বাইরের কেউ কি ইনভ্লব আছে কিনা বামেয়েটাকে মানসিক ট্রমার ভেতরে ছিল নাকি যার জন্য সে এই কাজ করেছে তা ও দেখতেসে আসলে এটা মার্ডার নাকি আত্নহত্যা। suicide but it's influenced suicide আক্তার আলি এর কথা হল এটা। তার সাগ্রেদ ভাবছে স্যার এর মাথা কি খারাপ হল? সুইসাইড আব্র ইনফ্লুয়েনসড হয় কিভাবে ? জাহিদ তুমি তোমার সোর্স কে বলেছ কিছু এর ব্যাপারে জানার জন্য? জাহিদ মাথা নেড়ে জবাব দেয় স্যার যা জানা গেছে তা হল তাদের পারিবারিক কলহ ছিল কিন্ত সেটা ত সব ফ্যামিলিতে থাকে । আহ জাহিদ তুমি বেশি বেহইসাবি কথা বলছ কেন বুঝতে পারছ না যে এটা মার্ডারের কাছাকাছি ,ভিক্টিম এ্ম নি তেই আত্নহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় নাই। আর এর বিচার হয় না আমাদের দেশে কারন আইন যেখানে রিয়েল মার্ডারের বিচার করে না সেখানে এই কেস ত বলেই আক্তার আলি ঘাড় ঘুরালেন। হঠাত তার মনে আস ল সাদা নীলের আঁকা ছবির কথা যা সে নাইমার রুমে দেখেছে। জাহিদ চল ।স্যার কই যাব? আবার নাইমার বাসায়। কিবলেন স্যার এত রাতে! জাহিদ পুলিশের রাত দিন বলে কিছু নাই চল। তারা দুইজনে মোট্র সাইকেল করে গেছে নাইমার মা দরজায় পুলিশ দেখে আবার আ্তঙ্কিত হয়ে উঠলেন আবার না জানি কি রকম প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। জাহিদ আর আক্তার আলি সোজা নাইমার রুমে চলে যায়। আবার তারা ছবি গুলি দেখে আক্তার আলি কি যেন খুজঁছে কিন্ত কিছুই মিলে নাহ তারা ছবি গুলি ওয়াল থেকে নামায় আর দেখে রক্তের দাগ !চমকে উঠে তারা! একি! একি দেখছে! রক্ত! তারা দেয়াল ধাক্কা দেয় ভেতর থেকে বের হয় আরে্ক টা লাশ। থ খেয়ে যায় তারা আরসাথে সাথে যখন নাইমার মাকে ডাক তে যায় দেখে মহিলা পালিয়েছেন।তল্লাশি চলে সারা রাত বাড়ীটায় লাশ টাকে পাঠানো হয় পোস্ট মর্টেমএরজন্য।আমি জানিনা আফা এই লাশ কার ?মারের উপর মার চলে কিন্ত কিছুতেই সবীকার যায় না সে যে এই লাশ কার । পুলিশ এর এত্ত মার খেয়েও মহিলা কিছুতেই উত্তর দেয় না। এক মহিলা কন্সটেবল তাহ মিনা বলে স্যার আপ নি আমাকে চান্স দিন আমি এটা এর সাইজ করি।ঠিক আছে দেখ তুমি পার কিনা ?

Friday, April 24, 2020

ভালো থেকো আমার ভাল বাসা তোমার প্রেমিকা দের নিয়ে! পার্ট ১

বি:দ্র:চটগ্রাম শহরের উপকন্ঠে এর এই সত্য কাহিনি টি নেয়া হয়েছে এক উপজাতি মেয়ের প্রেমের কাহিনি অব লম্বন করে।
 খাগড়াছড়ি এলাকার গ হীন অরন্য যেখানে শিক্ষার আলো আজো অনেক কম ছড়িয়েছে সেই এলাকার এক মেয়ে নাম সুপ্রিয়া মারমা। দেখতে আর ১০টা উপ জাতি মেয়ের মত সে নয়। অনেকটাই বাংগালি ধাচে গড়া চেহারায় রয়েছে অন্য রকম মায়া । তার ভুবন ভুলানো হাসি দেখে যে কেউই প্তন্ময় হতে পারে ।কিন্ত আজ তার অতি আনন্দের দিন ।
কিছুক্ষন পর তার পরীক্ষার রেজাল্ট  বের হবে আর সে এই আনন্দে খুশি মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বাবার হাতে স্কুল পাশের সার্টিফিকেট থাকবে জেনে খুব গর্ব তার ।কারন হয়ত তার বংশে সেইই ১ম কোন পাব্লিক পরিক্ষায় অংশ নেয়া মেয়ে ।এজন্য একটু অহম ও আসছে  ।রেজাল্ট বোর্ডে টাংগানো হল। সুপ্রিয়া ১ম বিভাগে পাশ করেছে। তার অতি উতসাহি বাবা খুশিতে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন ।
মেয়ে ও খুশি ।বাড়ি ফিরতে ফিরতে তারা ২জন এ অনেক গল্প করল আর মিষ্টি কিন ল বাড়ির জন্য।  এর পর আর কিছুই হল না। আনন্দ মাটিকরে  দিয়ে সুপ্রিয়ার লাশ  পাওয়া গেল পাহাড়ের দুরবর্তি স্থানে । লাশের সাথে একটা চির কুট। লেখা আছে প্রতারনার শাস্তি!  বিস্ময়ে পুরো পাড়া হত বাক ! এমন সহজ সরল মেয়ের সাথে এমন হবে কেন? সবাই একই প্রশ্ন করে বেড়াচ্ছে ।
 পরের দিন  সকাল বেলা পুলিশ আসে লাশ নিয়ে যায় । পোস্টমর্টেম করা হবে। কিন্ত পরিবার বাধ সাধে। তারাচায় না তাদের সন্তান আরো লাঞ্চিত হোক। তারা চায় তার শেষ কৃত্য হোক । কিন্ত আইনি জটিলতা দেখাদেয়। কিন্ত পুলিশ তাদের কথা শুন বে না কারন তারা দেখাচ্ছে এটা পুলিশি কেস। তাই যেভাবেই হোক এর পোস্টমর্টেম করতে ই হবে। অব শেষে লাশ নেয়া হল  রিপোর্ট আস ল। মেয়েটাকে বিষ দেয়া হয়েছে রিপোর্ট বলছে। কিন্ত এমন বিষ যা কোন ক্যামিকেল মিশানোনয় এটা হল বুনো এক প্রকার বিষ! সবাই হত বাক। পুলিশ সন্দেহ করছে তার পরিবার কেই কারন এই বিষ ।
বিষক্রিয়ায় মারা গেছে সে এটা ভাবতেই  সবার  চোখ চমকে উঠছে বিশেষ করে সেই এলাকার সাইকেলে করে যাওয়া আসা করা ডাক পিয়ন চাচা মনু মিয়ার।  চাচা সুপ্রিয়ার মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। বার বার কাঁদছেন আর বলে যাচ্ছেন আমার জীবনে এরকম সহজ সরল মেয়ে আর দেখিনি। যে কোন দিন কাউরে এক টা উহ শব্দ পর্যনত করল না সে কিভাবে  এই রকম ভাবে মারা গেল! এই কি দিন ছিল দেখার !প্রতিদিন আমার কাছে আস ত জান তে সুবলের কোন চিঠি আসছে কিনা। তার এই কথা শুনে সুপ্রিয়ার বাপ চিৎকার দিয়ে বলে উঠে কি বল্লা তুমি সুবল??!চমকে উঠে সবাই! কারনেই সুবল কে গ্রাম ছাড়া করা হয়েছে বছর খানেক আগে !এখন ত সব কিছু শেষ ।এই সব বলে আর কি হবে তার চেয়ে সুপ্রিয়াকে দাহ করে আস সবাই মিলে চল।
দাঁড়াও! হঠাত বলে উঠে সুপ্রিয়ার মা আমার মেয়েরে কে মারছে ? তোমরা কি তা জান ? আমি জানি ! সবাই ঘুরে তাকায় তার দিকে। সুপ্রিয়ার মায়ের কথা শুনে তার বাপ চিৎকার করে বলে উঠে  চুপ যা কইতাসি !আমি কিন্ত তোরে মাইরা ফালাব। সুপ্রিয়ার মা বলে উঠে কেন চুপ যামু ?? তুই  পাপ করবি আর তার বলি আমার মাইয়া হইয়া গেসে গা আর তুই এখন ভালা সাইজ্জা বইসা থাক বি?
দারোগা সাহেব উপস্থিত হন তখন ।সুপ্রিয়ার মা পাগলের মত তার কাছে গিয়ে বলে আমার সবামিরে ধইরে নিয়েযান  সে মারসে আমার মাইয়া রে! পুলিশ অবাক হয় নাই ।কারন  অনেক সময় এরক্কম হতেই পারে। এর মাঝে গ্রামের মাঝি আইসা গেল । (মাঝি হল মোড়ল ) তিনি উঠে বলেন কি বলছ সুপ্রিয়ার মা তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেল ? তোমার মেয়ে মারা গেছে আর তুমি কি তোমার সবামিরেও খোয়াতে চাও? তুমি কিভাবে এই চিন্তা করতে পারলা ? এক বাপ যে তার মেয়েরে এত্ত মায়া করতে পারে সে কিভাবে মারতে পারে? তোমার মেয়ে মারা যাওয়াতে তোমার ত দেখি মাথা পুরাই গেসে গা। যাও ঘরে যাও! দারোগা সাহেব আমার গ্রামের  এই মেয়েটা বড়ই মেধাবি ছিল কারন তার সমানে কেউ আর পড়তে পারে নাই ।এর মা মেয়ের শোকে এমন হয়েগেছে গা।না স্যার !আমি সত্য কথা বলতেসি আপ নি আমারে বিশবাস যান স্যার । দারোগা তখন উঠে দাড়ায় আর বলে আচ্ছা আসেন আমাকে  স্ট্যাটমেন্ট দিয়ে যান ,এই কথা বলার আগেই সুপ্রিয়ার বাপ তার মাকে ধরে নিয়েযেতে চাইলে দারোগার ভয়ে সরে যায় দ্রুত। দারগা তাকে খুজঁতে লোক পাঠায়।পুলিশ তাকে ধরে ও ফেলে!অই কই যাস তুই? তর বউ এ কইসে তুই তর মাইয়ামাইরা ফালাছস সত্য কথা ক কি করছছ?
পুলিশ্ কন্সটেবল আজিজ মিয়ারমাইরের চোটে সে চিৎকার করে বলে হ মারসি আমি ই আমার মাইয়া মারসি!!!

পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তাকে। তার বউ এর বিরুদ্ধে সমাজের কানাঘুষাশুরু  হয়ে গেছে ।ছি ছি ছি সুপ্রিয়ার মা এই কাজ কিভাবে করতে পারল। সে কি পাগল হই গেসে!নিজের সবামিরে কিভাবে জেলে দিল?? মাইয়া গেসে বুঝলাম তাই বলে কি নিজের জামাই রেও খোয়ায়তে হবে? সবাইর কোন কথার দিকে তার ভ্রুক্ষেপ নাই ।
সে সুপ্রিয়ার মা । ফ্যাল ফ্যাল করে মেয়ের লাশের দাহ দেখে আর চিল্লায় আমি কেন তোরে ছাইড়া দিসিলাম তোর বাপের কাছে। সে তরে মাইরেলাশ কইরে আমার কাছে আইন্না দিসে।
 পর দিন ...।।
 লোক জন  গ্রামের রাস্তায় তাকের উপর কাকে যেন বসে থাকতে দেখে! হতবাক হয়ে তাকায় !কে এ! দেখে ! সুবল !সুবল কে দেখে গ্রামের পিয়ন দৌড়ে আসেন বলতে থাকে বাপ তুমি ?? কিভাবে আইলা? কেম্নে খবর পাইলা? সুবল কাদঁতে থাকে ।তুমি পলাউ! কেন? কেন চাচা? পুলিশ তোমারে খুঁজে ।তোমার নামে মামলা হইতে পারে ! মামলা?? কেন? সুবলের বিস্ময়। সে ভাবে আমার নামে মামলা?? কে দিতে চায়? পিয়ন চাচা আসলে কি অইছিল কউ দেহি?
সুপ্রিয়া বিষ খাইয়া মইরে গেসে! এতক্ষনে সব বুঝতে পারল সে ।সে এসেছিল সুপ্রিয়ার সাথে দেখা করতে ।তাকে কলেজ এড মিশনের জন্য শহরে নিতে চেয়েছে সে। এই ব্যাপারে তার বাপের সাথে আলাপ করেছিল কিন্ত এই সব কি শুন ছে! তোমার কথা কি সত্য চাচা! হ বাপ! চইলাযাও! বাচঁ তে চাইলে চইলাযাও ।
আমি তারে দেখতে চাই চাচা ! কাঁদো কাঁদো চেহারায় সে বলে। সম্ভব না। চাচার জবাব ।এখন গেরামের কেউই তোমারে দেখ লেই পুলিশে খবর দিব তোমারে সুপ্রিয়ার খুনির লিস্টে নাম দিব ।সুপ্রিয়ার মা তার বাপ রে পর্যনত জেলে দিসে। কি কও? মাসি মাএই কাম কেম নে করসে? সে মাইয়া হারায়া পাগল প্রায়! এখন আর এইদিকে থাকবানা তুমি যাও ভাগো নয়ত তোমারেই খুনি  বানায়া দিব ।
সুবল আর ফিরতে চায়না। সুপ্রিয়া নেই  এর চেয়েকষ্টেরকিছুইহতে পারেনা। সে জেলে যাইতে রাজি কিন্ত যে সুপ্রিয়াকে মারল তার বিচার করেই সে জেলে যাবে ।
 স্থানঃ
পুলিশ স্টেশন
I don't think this is a suicide. পুলিশ বলছে । কিন্ত মজার ব্যাপার হল যেই বিষ এ মেয়েটা মারা গেছে তার থেকে বুঝায় যায় সে আত্নহত্যা করেছে। কিন্ত এখানে বোঝা যাচ্ছে না আসল হত্যাকারি কে? এক একজন এক ধরনের কথা বলছে যা আসলেই অদ্ভুত। কন্সটেবল আজিজ মিয়া পান চিবুচ্ছে আর বলছে স্যার আমরা তো মাইয়ার বাপ রে ধইরে আন সি তারে মাইর ও দিয়া জিগাইসি সে যা কইসে তার অর্থ দাঁড়ায় তার লগে মাইয়া গেসিল স্কুল থাইকা রেজাল্ট আনতে আইনা বাড়ী আউনের পথে তারার লগে কোন সুবল এর দেখা অইসে ।স্যার সুবল রে ধরে জিগাইলে হয় না?? সেই ই যদি মাইয়ারে ভাগাইতে চায়? হুম! পুলিশ অফিসার আহমেদ মাথা নাড়ল তার কথায়।I think e must chat with supria's mother.আমরা আবার চলেন যাই তাদের গ্রামে। আসল কাহিনি অইখান থেকেই আর আজিজ মিয়া তুমি সুবলের খোজঁ নাও সে কই আছে এখন জান। সে নিশ্চয়ই আসছে গ্রামে আসলে তাকে এরেস্ট করবে। আর পোস্ট মর্টেম এর রিপোর্ট এ যেই বিষের আলা মত পাওয়া গেছে তার কি কোন তথ্য মিলেছে? কিভাবে কি হয়েছে?? ইন্সপেক্টর আহ্ মেদ জিজ্ঞেস করছিল কন্সটেবল আজি জ মিয়াকে ।না স্যার অহন ও পাই নাই। তবে লোক লাগাইসি দেখা যাক কি হয়।
This is ridiculous! এটা কিভাবে সম্ভব? মেয়ে টা বিষ খেয়েছে এর ভেতরে এই রিপোর্ট! পুলিশ অফিসার সাজ্জাদ আহমেদ অবাক। দেখছেন মেয়েটা প্রেগ নেন্ট ছিল! তিনি এই রিপোর্ট পেয়েই দৌড়ে গেলেন হেড অফিসের দিকে ,সেখানে আছেন এই কেস ইনভেস্টিগেট করছে যেই অফিসার তার কাছে । তাকে হাতে পেয়েই তিনি ধমক দিয়ে বলে বসেন তুমি কি এটা দেখ নাই আগে ? না দেখেই রিপোর্ট দিয়েছ যে শুধু বিষ খেয়েছে? তোমার চোখকই ছিল? তুমি জান এই কেস কিসের দিকে যাচ্ছে ? বুঝতে পারছ??
 সরি স্যার। আসাদ ইনভেস্টিগেশন অফিসার । সে নতুন জয়েন করেছে । কিছুই বুঝার আগে এই ঘটনা আর স্যারের ধমকে সে একটু কিংকর্তব্য বিমুঢ়!! সে বকা খেয়ে হা করে তাকিয়েছিল । আরেক ধমকে সে হুশ এ আস ল। এই তুমি কি দাড়িয়েই থাকবে নাকি যাবে গিয়েদেখ কেন এই রিপোর্ট আসছে। অই মেয়ের কি সুবলের সাথে আসলেই সম্পর্ক ছিল কিনাতাও খতিয়েদেখ আর সুবল কে পাইলে ধরে আন,হারাম জাদা গালি দিল সে।এই  কেস সামান্য বিষ খাওয়া কেস না। এর ভেতঅর প্রেম ঘটিত ব্যাপার আছে তাজানা কিন্ত এর মাঝে সমস্যা করেছে মেয়ের বাপ আর মা। তারাকেন উলটা পালটা কথা বলা শুরু করেছে তা বুঝতে পারছি না। মা বলছে বাপ তার মেয়ে কে মেরেছে কিন্ত কেন? পুরো ব্যাপার টাখতিয়ে দেখা দরকার।সহজ একটা কেস কে জটিল করেতোলার কারন কি?
কথা গুলি বলতে বলতে আহ মেদ স্যার চলে গেল! আসাদ ও মোটর সাইকেল এ চড়ে বের হবে  এমন সময় কল। মোবাইলেকল দেখে সে একটু ও চমকিত হয়নাই উলটা আশা করছে  যে তার আর যাওয়া র দরকার নাই।সোর্স ফোন করেছে। সে কল ধরেই চিৎকার, অইব্যাটা তুই কি ইনফরমেশন দিসস?
তরে পাইলে হয় এক বার। কি কন স্যার?আমি ত সত্যইবলসি। সেই মাইয়া বিষ খাইসে আরসুবলের সাথে তার সম্পর্ক আছে ।ব্যাটা বদের হাড্ডি! টাকা খাইতে আবার মিথ্যা কস? তোর কপালে জেল আছে।স্যার মাফ কইরে দেন !আমি যেই  জিনিস চখে দেখছি তাই কইসি।অই অঘা! তুমি কি তোমার ঘরের বউএর সাথেকথা কইতে দ্যাখে তারে ও তেমনভাব? আসাদ এর মাথা এখন নষ্ট!নতুন জয়েন করেগালি খে ইয়ে বড় স্যারের এখন তারমাথায় আর কিচ্ছু আসছে না। এখন যা আসছে তা হল সুবল কে বের করাআর মাইর এর উপ্রে রাখা তাহলে তার মাথা  ঠিক হবে। সে সোর্স কে বলে শুন আজকের ভেতরে সুবলের খবর নিবি কই আছে দেখবি তারে। খুজেঁ বের করবি। সঠিক ঠিকানা দিতে পারলে ৫০০০ টাকা পাবি বুঝলি?? এই লাইনে তুই পুরানা! বুঝিস ত! হ স্যার! দিমু! বলেই সে ফোন কেটে দেয়।!সে এখন অন্য দিকে মন দিয়েছে। কিছুতেই তার মন আসছে না এই দিকে ।

সুপ্রিয়ার বাসাঃ
সুপ্রিয়ার বাসায়  এখন সমস্যা আছে সেইখানে যাওয়ার কোন উপায় নাই। মানুষ আসছে আর যাচ্ছে কিন্ত সুপ্রিয়ার মায়ের কোন খবর নাই। সে চিত হয়ে আছেন তার ঘরে! মানুষ আসছে তার কাছে আর বুঝিয়ে যাচ্ছেন। অবস্থা এমন যে তার মায়ের দিকে আর তাকানো যাচ্ছে না। আমার সাথে কথা কউ? ছোটছেলেসুপ্রিয়ার ভাই আদরের আক্ষেপ্তার মা তার সাথে কথা কয় না।
আশা আইসছে! অমা মা আশা দি আইসছে!উত্তর নাই। কথায় বলে না এই মহিলা। মরে গেছে নি? ধাক্কা দিয়ে দেখল এক প্রতি বেশি ।দেখি আসলেই ! বাইচ্চানাই সে! সবাই আচ্ছন্ন শোকে! এক দিন ওগেল না মেয়ের শোকে মা গেছে মরে। খবর শুনে আবার পুলিশ আসে।what is this!  একের পর এক মৃত্যু দেখে ইন্স পেক্টর সম্পুর্ন অবসাদ গ্রস্থ। তিনি এই খুনের কিনারা পর্যন্ত এসে এখন আরেক খুন দেখে কিছুতেই মিলাতে পারছেন না আসলে কি হতে যাচ্ছে।মাথায় হাত আসাদের ।সে কিছুই বুঝে  উঠার আগে সব কিছু শেষ ।
পুরো এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে গেছে কিন্ত সুবলের দেখা নেই । তার মা সব শুনেছে আর সেজন্য ছেলেকে শহরে পাঠিয়ে দেয় যেন পুলিশ তাকে ধরতে না পারে। এখন সে দেশ ছেড়ে যাবে এই ব্যাপার টা পুলিশের কানে আসে নাই। যাক গে পুলিশ তাকে খুজঁছে অনেক দিন।কিন্ত সে দেশ ছেড়ে চলে যাবে এই কথা সোর্স বলতে পারেনাই। সুবল দেশে না  থাকার জন্য তাকে তার পিসির কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে তার পরিবার। কিন্ত তারা এই বিষয়ে পুলিশের কাছে মুখ খুলতে নারাজ। পুলিশ বহুবার তাদের জেরা করেছে  কিন্ততার মায়ের অতিচালাকির কারনে পুলিশ ধরতে পারেনি ।
সুবল ভারতে পার যেদিন হবে সেইদিন তার মাকে ফোন দেয়ার কথা ছিল কিন্ত তার মা ছেলের সাথে কথা বলতে চান নাই কারন পুলিশ ঘুরছে তার বাড়ির আশপাশ।পরিস্থিতি এমনই যে চাইলেও কথা বলা সম্ভব নয়। রাজ্যেশ্বরী দেবীর বুদ্ধির জোরে তার পুত্র বেচে যাবে এই সবার চিন্তা তার পরিবারের। কিন্ত
বিধাতার ইচ্ছে অন্যরকম ছিল। সুবল ভারতে  পৌছে গেলেও   তার ভেতরে সেই বিবেকের তাড়না  ছিল। সে কিছুতেইএই ভাবে পালাতে চায়নি। কত শত সৃতি জমা আছে সেইখানে কিন্ত আর কখনই যাওয়া হবে না আর দেখা হবে না সুপ্রিয়াকে আর ক খনই না। ভাবতেই জল আসছে তার চোখে। চোখ মুছে সে  আর  সুপ্রিয়ার কথা ভাবতে থাকে যে সে কিভাবে বিষ খেল? আর তার নাম সুপ্রিয়ার সাথে ?? সুপ্রিয়াকে পছন্দ করত সত্য কিন্ত সু তাকে দাদা ছাড়া আর কিছুই ভাবে নি। তার চঞ্চলা চপলা কথায় সুবলের মন তার প্রতি ঝুকেছে সত্য কিন্ত সে জান ত সুপ্রিয়াতাকে দাদার চেয়ে বেশি কিছু ভাবেনি।
বাস ছেড়ে দিচ্ছে দাদা আপনি কল কাতা কই যাবেন ? সম্বিত ফিরে আসে সুবলের চিন্তায় ছেদ পড়ে। সে বলে আপাতত একটা হোটেল এ উঠব এর পর সেখান থেকে বালিগঞ্জ। আপনিকইযাবেন?
আমি ত শহরেইযাচ্ছি ।তা মশায় আপনার নামটা ? ঈশা। ওহ আপনি মুস লিম? সুবলের প্রশ্ন? আজ্ঞে না আমি ভারতীয়। লোকটার কাটা কাটা জবাব। বুঝা গেল সে অপছন্দ করেছে তার কথা। 
সুবলের মন পড়ে আছে তাদের গাঁয়ে সুবল আর সুপ্রিয়া আহা কি ছিল সেই দিন গুলি !সে দিন গুলির কথা মনে করে সে কাদতে থাকে। ছোট জাত বলে  তার মা সুপ্রিয়ার পাশ দিয়ে যেত না। কিন্ত সুবলের এসব পছন্দ হত না। সে তার আশে পাশে যেত সাহায্য করত খবর নিত  কিন্ত কি থেকে কি হয়ে গেল এসব ।
সুবলের ভেতর একটা খেদ আসল আমাকে গ্রামে ফিরতে হবে । কারন সুপ্রিয়ার মৃত্যুর কারন আমি। মরে যদি যাই তাও বেশ কিন্ত সত্য কথা বলতে হবে। আমি এইভাবে পালাতে পারিনা।

সুবলের মা সেই সময় ফোন করে। বাপ আমার কেমুন আছস? তোর মাসিরে বইলে দিসি তোরে যেন ভাল মত রাখে।সুবল চুপ করে সব শুনে আর হু হু করতে থাকে।
এরপর  পরের বাস এ বাংলাদেশে চলে আসে সে। সোজা থানায়। মাকে কিচ্ছু না জানিয়ে। তাকে দেখে থানার সবাই অবাক। কারন তারা তাকেই হন্য হয়ে খুঁজছে আর অপরাধি হাজির। স্যার সুবলের উত্তর
আমি সুপ্রিয়াকে ভাল বাসি সত্য কিন্ত তারে আমি খুন করিনাই। পুলিশ তার কথা বিশবাস করেনা বলে না মারলে পালায় গিয়ে ছিলি কেন? ভয়ে স্যার। কিসের ভয় ?তারাআ আমারে ও যদি মানুষে বলছিল আমারে মাইরা ফালাইব এইভয়ে। পুলিশ তার কথায় রহস্যের গন্ধ পায় কি হয়ে ছে আসল কথা বলে ফেল।
স্যার যেদিন সুপ্রিয়ার বাপ আর সে পরীক্ষার রেজাল্ট আনতে গেসে স্কুলে সেইখান থেকে তারা গঞ্জে যায় আমার সাথে তাদের দেখা হয় গেরামের বাজারে আমরা কথাও বলি এর পর তার বাপ তারে বলে তুই বাড়ি যা আমি সুবলের সাথে কথা কইয়া আসছি। সে বাড়ীর দিকে চলে যায়। এর পর? পুলিশ জিগেস করে ।এর পর আমি জানিনা। মানে কি?? তুই এই মিথ্যা কথা বলতে আসছিস এইখানে? খেপে গেছে সবাই। দেখ সুবল মার খাওয়ার আগে বলে ফেল কি করেছিস ?
সুবল বলছি আমারে একটু পানি দেন ।পুলিশ পানি দেয় তাকে । সুবল বলে আমাদের গ্রামের ১ম মেয়ে ছিল সে যে কিনা ছাত্রি ভাল ছিল আর দেখতে ভাল। আমি তাকে বিয়ে করতে চাইসিলাম এই কথা আমি তার বাপকে সেইদিন বলি। এর পর সেই রাতে আমি আবার তার সাথে দেখা করি। আর তারে সব জানাই । সেই দিন সে আমাকে অনেক গালি দেয় বলে আমি আপনাকে দাদা বাদেআর কিছুই জানিনা এর পর আমার রাগ চেপে যায় তার উপর আমি তারে চেপে ধরতেই তার বাপ আইসা আমারে দেখে ফেলে আর বিচার হয়ে যায় সেই রাতের বেলাতেই। সবাই আমার পক্ষে রায় দেয় কারন আমি আমার পরিবার জাতের বলে। মেয়েরে বিয়ে দিয়ে দিতে বলে তারা। কিন্ত সুপ্রিয়া রাজি হয় না।এই ঘটনা সেই রাতের যেদিন তার রেজাল্ট দেয়।সে বলে আমি কলেজে পড়তে চাই। আমি জবাব দেই পড়বে সমস্যা নাই কিন্ত বিয়ে করতে সমস্যা কি? সে বলে তুই আমার গায়ে হাত দিলি কেন আমি তোরে বিয়া করতাম না। কিন্ত আমি জান তাম না তার ভেতরে আরো কিছু আছে। কি? পুলিশের চক্ষু তখন উৎসুক জানার জন্য।
সুপ্রিয়া আগে থেকেই আরেকজনের সাথে শারিরিক সম্পর্কে ছিল এই কথা আমি জান তাম না। কি? পুলিশ তখন বিলিভ করেনাই  বলে শালা একটা মেয়ে বিষ খেয়ে মরে গেছে আর তুই তার চরিত্র নিয়ে কথা কস? তুইই মারসস অরে। বলেই তাকে মারতে উদ্দত হয় পুলিশ কন্সটেবল জিয়া। স্যার এর মিথ্যা কথায় কান দিয়েন না এর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন আর জেলে দেন । স্যার আমার সব কথা শুনেন আগে।
সুপ্রিয়ার সাথে তার অঙ্কের শিক্ষকের প্রেম ছিল স্যার।! পুলিশ মাথা ঘুরায় তখন।সেই ব্যাটা মুসলমান । পুলিশ তখন থ খেয়ে তাকিয়ে আছে। জিস্যার!আমি সত্য বলতেসি এই কথা কেউই জান ত না। আমি তার স্কুলে যাই আর তার স্কুলের বন্ধুদের জিগাই কেউ ই বলেনাই কারন সেই লোক প্রভাবশালি। তার বড় বড় লোকের সাথে খাতির আছে। পুলিশ তখন নাম জানতে চায় তার ।জামসেদ স্যার । পুলিশের চোখ বড় বড় হয়েযায় আর দ্রুত জামশেদ কে এরেস্ট করতে লোক পাঠায়।সেইই  সুপ্র্যা কে মারসে স্যার।
সুবলের আক্ষেপ আমি যদি আগে জানতাম তাহলে  হু হু করে কাদতে থাকে। আমিভয়ে ভারতে পালায় যাই স্যার। আর পরে আইসা জানি সে তার পরিবারকে হুমকি দিয়া রাখসে যে যদি কোন কারনে তার পরিবার এর কেউ এই কথা কয় তাহলে সবাই মারা যাবে। এই ভয়ে কেউই মুখ খুলেনাই। আর সেই শেষ দেখা আমার সাথে সুপ্রিয়ার সেই রাতের পর আমি চলে আসি সকালে শহরে বিকালে শুনি সে পৃথিবীতে নাই ।এর মাঝে কি হইসে জানি না। আমি জামশেদ স্যারের ফাসি চাই। তার বিচার হইতে হবে স্যার।
পুলিশ অঙ্কেরশিক্ষক জামশেদ গাজি কে ধরে আনে। তারগালেচড় থাপ্পর দেয়া হয় আর বলা হয়শিক্ষক হইয়া ছাত্রির শরীরে কেম নে তুই এই কাজ করিলি আর কত দিন যাবত এই কর্ম করতেসস? মারের চোটে
 জামশেদ সবীকার করে যে সে সুপ্রিয়াকে ফুসলিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে আর পরে যখন জেনেছে সুপ্রিয়া প্রেগন্যান্ট তখন সে  তাকে  বাচ্চা নষ্ট করার কথাবলে বনাজি এই বিষ খাইয়ে দেয় আর গ্রামের অশিক্ষিত মানুষ কে বুঝ দেয়যে সুপ্রিয়াকে ভুতে পেয়েছে ।তার এই কুকর্মের সাক্ষি ছিল হেডমাস্টার মশাই ,পুলিশ তাকে ও জেলে দেয়।
কিন্ত সুপ্র্যার বাবা কে নিয়ে তার মা কেন এই কথা বলেছিল ?সুপ্র্যার বাপ জান ত ব্যাপার টা কিন্ত ছেলেকে হারানোর ভয়ে তিনি চুপ করে যান ।এত টা প্রভাবশালি ছিল সেই অঙ্কের শিক্ষক।
ফাসি হয়ে যাবার কথা ছিল সেই শিক্ষকের। দেন দরবার করে সে জেল খাটে আর সেই  পরিবারকে ক্ষতিপুরন দেয় ।
বেশ কিছুদিন পর...
টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কিছু নতুন শিক্ষক। হবু সব শিক্ষক হবে ন সবাই জামষেদ সেই খানে আছে। হঠাতই সে তার এই কাহিনি সবাই কে জানায়। সবাই থ খেয়ে যায়। বলে আজো আমি প্রায়শ্চিত্ত করছি। মদের বোতল খেয়ে মাতাল হয়ে ছিলাম আর কি করেছি মনে নাই।
সুবলের মন অশান্ত কারন সে তার প্রেমিকার ন্যায্য বিচার পাইনাই।
তবু কেস চলে আর সুবল রা প্রতীক্ষায় থাকে এক দিন তার ভাল বাসার মানুষ ন্যায্য বিচার পাবে।
হয়ত  হয়ত বা নয়।
প্রতিক্ষা আর প্রতিক্ষা। তবু জামষেদের যা শাস্তি হবার হয়েগেছেসে তার জীবনের সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছে সৃষ্টি কর্তা কর্তৃক। তার বাপ মা সহ সবাই এক সাথে মারা গেছে ।
আর আমাদের সুবল
সুপ্রিয়ার সব রনে আজো লেখে
ভাল থেকো আমার ভাল বাসা
কেউ যেন উত্তর দেয় আকাশ থেকে
তোমার প্রেমিকাদের নিয়ে !!!
জানিও জামষেদ স্যার কে সুবল দা।
আর পারলে ক্ষমা করে দিও।
সুবলের ঘুম ভেঙ্গে যায় আর কেদেঁ উঠে হৃদয়
কেন তুই আমারে ভাল বাস লি না রে পাগ লি। এই ভাবে মরে যেতেহয় নারে এই ভাবে মরে যেতে নাই ।আমি এখন কি ভাবে থাকি তোরে ছাইড়া । তুই এইভাবে কেন মরে  গেলি ??
রাতের শেষে দিগন্ত জুড়ে আলো ফুটে উঠে ।সুবল তার ব্যাগ গুছিয়ে চলে যায় অজানার পথে । যাবার সময় ছোট্ট নদীতে সুপ্র্যার জন্য এক ডজন রজনি গন্ধা ফেলে দেয় আর প্রার্থনা করে যেন তার সুপ্র্যা পরকালে ভাল থাকে।
এই কালে না হোক পরের জন্মে সে সুপ্র্যার দেখা পাবেই এই আশা নিয়ে গ্রাম ছেড়ে যায়। মনে মনে বলে ভাল থাকিস আমার ভাল বাসা যেইখানে ই থাকিস।
শেষ

Saturday, April 21, 2018

অনিন্দ্যের মায়া

তার চোখ জোড়া দেখে থাকার মতই... কিন্তু আমি তার প্রেমে পড়তে চাই নাই আর প্রেমে পড়ে তাকে হারাবার ইচ্ছে ও আমার ছিল না। কিন্তু আমার ভাল লাগা ভাল বাসা এইসব যেন তার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় কোন এক অজানা কারনেই।
 আমি অনিন্দ্য চক্রবর্তি।পেশায় উকিল। পাশাপাশি ব্যবসাও করি। আমি অবিবাহিত। আজ আমি আপনাদের আমারই কাহিনি শোনাব।
সময়টা ধ্রুন কোন এক বস ন্তের বিকেলে। আমি কলকাতা থেকে সবে বাংলাদেশে এসেছি মাসির বাড়ি বেড়াতে। মাসি আর তার পরিবার বাংলাদেশে থাকেন । আমার মায়ের বাড়ি বাংলাদেশে। মুন্সি গঞ্জে, প্রায় দূর্গা পুজোয় তাই বাংলাদেশে আমার আর আমার পরিবারের বেড়াতে যাওয়া হয়। আমি কলকাতায় থেকে গেলেও পারতাম সেই বছর কিন্তু আমার মায়ের ইচ্ছে বাঙালি মেয়ে ঘরের বউ করে আনবেন। কলকাতার মেয়েরা নাকি ঘর করার মত নয় তাই তিনি খাটিঁ বাঙালি মেয়ে খুজেঁ দেখছেন। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই সেবার পুজোর আগেই বেড়াতে যাওয়া। আমার মায়ের সব জায়গাতেই একটু বাড়াবাড়ি কিন্তু এই ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না কারন আমার মা ভীষন কষ্টে আমাকে মানুষ করেছেন। বাবা মারা যাবার পর আমাদের যে পারিবারিক এসেট ছিল তা প্রায় নিলামে উঠে যেত যদি না মা দেখভালের জন্য নিজে কিছু না করতেন, বিধবা এক মহিলা সাথে ২টো সন্তান নিয়ে জীবন সং গ্রাম করে করে অল্প বয়সেই যেন বেশি বুড়ো হয়ে গেছেন। আমার ছোট এক্ টা বোন  আছে কলকাতায় রবিন্দ্র ভারতি তে পড়ছে। তার চোখে এই বয়সেই চশমা !! দেখে মনে হয় কত বড় বিদ্দান! অল্পে পেকে যাওয়া এই মেয়ে আমার বউ নিয়ে আমার চে স্বপ্ন দেখে বেশিই ......

Monday, March 12, 2018

ভট ভটি ওয়ালা!!

চট্টগ্রামের এর  লাইফ স্কিল প্রোগ্রাম।  সবাই অংশ নিচ্ছিল  বলা যায় নিরবে হয়ে যাচ্ছে এমন ...সময় ২০১৫ এর জুন কি জুলাই মাস,সবাই ই খুবি ব্যস্ত   কারন অনেক দৌড় ঝাপ হয়ে গেল এই প্রোগ্রামের জন্য। হঠাতী এক মেয়ে লাল শাড়ী পড়া   অবস্থায় দৌড় দিল কেন তা দেখতে চোখ রেখে ছিল যারা তারা হাসছিল মেয়েটার পাগলামো দেখে, তার এক হাতে সেলফি তোলার জন্য রাখা স্মার্ট ফোন টার দিকে তাকিয়ে আছে একজন চেহারায় তীক্ষ দৃষিট যেন পারলে মার দেয় কেন সেলফি তুলছে!!!!!! মেয়েটা তোয়াক্কা না করেই ছবি তোলায় ব্যস্ত। একটু পর পর ক্লিক ক্লিক এর মাঝেই একজন আপা গোছের কেউ বলল এত ছবি কিউ?? নিজেকে দেখার জন্য... চপল উত্তর কন্যার। কন্যার নাম ও বেশ ,জুলি। বিদেশি বিদেশি ভাব কিন্তু সে এদেশি মানে বাঙ্গালি,কনের বাড়ী চট্টগ্রামে আর যিনি তার & আর চোখ রাঙ্গাচ্ছিল তিনি আর কেউ নয় গল্পের ভট ভটি ওয়ালা......আমাদের গল্পের নায়ক
জুলি ...
চটপটে হাসিখুশি একটা মেয়ে,সারা ঘর মাতিয়ে রাখতে এক্সপার্ট।বলা যায় ভীষন আনন্দে থাকতে ভাল্ বাসে,কাজ করছে লাইফ স্কিল এর একটা প্রোগ্রামে ............
প্রোগ্রামের মাঝে হটাত ই একটা আচমকা দমকা হাওয়ার মত ঘটনা ঘটে গেল,জুলি তাকিয়ে আছে আর এক দিকে  হটাত খেয়াল করল ঐ লোক তাকে দেখছে ??কেন?? আগেও তাকে দেখেছে কিন্তু এইবারে সে চোরা চাহ নি দিয়ে দেখে কেন?? জুলির সাথে এই ভটভটি ওয়ালার রিলেশান ঐ হাই হ্যালোতেই... সে এই ব্যাক্তিকে ৪ চোক্ষে দেখতে পারে না কারন জুলির ধারনা পৃথিবির যত বিরল প্রজাতি আছে তার মাঝে এই লোক হল মানব প্রজাতির মাঝে একটা বিরল প্রজাতি এইটা এমন একটা আল্লাহর সৃষ্টি যে কোন মেয়েকে পছন্দ করা তো দুরের কথা দেখতেই পারে না!!! তার কাছে কোন কিছুই আনন্দের না  সে জানেই না ভাল বাসার মানে কি?? ভীষন অহংকারি এই লোক যখন তার মোটর বাইক (ভটভটি) নিয়ে ঘোরে তা এক দেখার মতন দৃশ্য হয়।  ও হ্যা এই ভটভটি ওয়ালার একটা নাম ও আছে!! ।।হাসান...।
ফেনির আঞ্চলিক ভাষার টান টা কথা বলতে বলতে বেরিয়ে যায় তার। শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা যেন অনেক কষ্টের তার জন্য।মাঝে মাঝে ত এমন আজব আচরন সে করে যা না দেখলে কেউ বিলিভ ই করবে না আসলেই সে কি জিনিস।।কিন্তু এতে তার বিন্দু মাত্র আপত্তি নাই তিনি মহা উতসাহে তার বয়ান দিয়ে যাবেন...আজব ।।
জুলির ভাবনায় হাসান নামক এই বিরল প্রজাতি যখন ঘুরছে সেই মুহুর্তে সেই প্রানি মানে ভটভটিওয়ালা হাসান তার ই দিকে তাকিয়ে!!আত্মা শুকিয়ে গেল প্রায় জুলির...কারন এই জিনিস তার দিকে তাকানোর মত কোন কিছুই নাই!! কিন্তু জুলিকে অবাক করে দিয়ে সে তাকিয়ে আছে......একবার না ৩বার তাকাল।আবার জিজ্ঞেস ও করল কেমন আছে??জুলি ভাবছে আর একটু হলে সে ধপাস করেই পড়ে হার্ট ফেল করত!! যাহোক জুলি সুক্ষ ভাবে বুঝার চেষ্টা করল কি এমন কারনে সে তাকাল। এই নিয়ে যখন তার মাথায় সেই মুহুর্তে সাহানা আপা মানে সেই অনুষ্ঠানের এক পারটিসিপেন্ট এসে জুলিকে ধাক্কা দিয়া হুশে আনল। কিরে জুলি কি হয়েছে?? এ।।আমতা আমতা  করে জবাব দিল সে,ঘটনার আক স্মিক্তায় জুলি থ। সাহানা আপু আমি তোমাদের ছবি তুলে দিব ওকে??
হ্যা তা না হয় দিস কিন্তু তুই এমন ভ্যাবচ্যাকা খেয়ে বসে আছিস কেন?? কি হয়সে?? সাহানার প্রশ্ন। কিছু না ।। জুলি মুখের উপর জবার দিল কিন্তু ভেতরে ভেত রে সে মচকা খাওয়া মানবিতে পরিনত হইয়ে গেছে বলা যায় পাল্পিটিশান শুরু। যাক ভেত রে ভেত রে যা আছে তা থাক কিন্তু উপ্রে সে ব্যাক্তিতব সম্পন্ন নারী হইয়া রইল।  প্রোগ্রামের মাঝেই সে একই বার দেখল তাকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে ভট ভটি ওয়ালা...জুলির প্রান যায় যায় ই কারন এই জিনিস কিভাবে মেয়ে দেখে তাও এইরকম ভাবে!!!সে আশে পাশে ভাল করে দেখতে থাকে আর কোন সুন্দরি মেয়ে আছে কিনা অবশ্য থাকলেও বালাই ষাট কারন জুলির জানা মতে এই ভট ভটিওয়ালা এই জ়ীবনে কইন্যা দেখবে না কিন্তু আজকের ঘটনা ব্যাতিক্ক্রম!! 
এক্টূ পর দেখে জুলি ভট ভটি ওয়ালা  পানি দিচ্ছে কাউকে!জুলি আরও অবাক হয়!! কারন তার মত মানুষ জীবনে কাউকে পানি খাওয়াবে এইটা ভাবা ই যায় না!!!


প্রোগ্রাম শেষ, সবাই বিদায় নিচ্ছে একে অন্যের কাছ থেকে ছবি ও তুলছে, জুলি ও বেরিয়ে যাবার প্রস্তুতি নিল  বেরো তে বেরোতে উকি ঁ দিল যে ভটভটি ওয়ালা কি আশে পাশে আছে না গেছে??
দেখে নাহ নেই ।। ভেত রে ভেত রে অদ্ভুত মিশ্র প্রতিক্রিয়া নিয়ে বাসায় আসল জুলি।



বাসায় ফিরেই হাসছে জুলি। তার হাসি দেখে ছোট বোন শিউলির মিশ্র প্রতিক্রিয়া হল ভাবল পাগল হয়ে গেছে মনে হয়।শিউলি জুলির বোন,আপি তোর কি হইসে?পাগলের মত হাসছিস কেন?? জুলির হাসি তখন ও বন্ধ হয় নাই  অনেক কষ্টে হাসি চেপেই বলল আমি পাগল ই ...... ওকে ...


এর কিছুদিন পর...
 হাসান কে একটা স্কুটীতে দেখে জুলি হাঁ হয়ে গেল। মানুষ এইরকম হতে পারে ?? সব ছেলেরা মোটর বাইক নিয়ে ঘুরে  আর এই জিনিস কোত্থেকে মেয়েদের স্কুটার নিয়ে হাজির!!!! এইটা যে একটা বিরল প্রজাতি তা আবারো প্রমানিত হল। হঠাত জুলির মাথায় আস ল এক টু জিজ্ঞেস করি কি ঘটনা কিন্তু সাহসে আর কুলোল না কারন যে প্রজাতি ১৯-২০ হলেই সে ত্যাড়ামো শুরু করবে সুতরাং উলটা পথ  ধরল জুলি। আপা...  জুলি তাকায় ।। দেখে  বিখ্যাত ব্যাক্তি হাসান ভটভটিওইয়ালা ডাকছে জুলি র মাথা ইয় ততক্ষনে  হাসানের নাম এর সাথে মেয়েলি স্কুটী দেখে ভটভটি ওয়ালা নাম টা চলে আসছে।
জ়ী ভাইয়া।।জুলি উত্তর দেয় ,আগামিকাল কিন্তু আস তে হবে । কেন?? সচকিত প্রশ্ন জুলির। শাখার কিছু কাজ আছে আপনি আসলে ভাল হয়। জুলি ভেতরে ভয় পাচ্ছিল যদি আরও কিছু বলে।যাক বলে নাই।
আমি চেষ্টা করব।আসি তাহলে ??একটা হাসি হাসি চেহারা বানিয়ে বের হল জুলি বের হতে হতেখেয়াল করে দেখে তার দিয়ে আড় নয়নে ভটভটি ওয়ালা তাকিয়ে আছে। জুলিও বুঝার চেষ্টা করল এর কি হরমোনাল সমস্যা হয়ে গেল নাকি??এ ত কোন মহিলাকে দেখে ভাল নজরে দেখেই না আর জুলি যতটা জানে এই ত্যাদোর নাকি বিয়ে না করার পন করেছে তাই নিশ্চিন্তে তার সামনে গেলে ও কোন সমস্যা নাই কিন্তু এখন তো এর হাব ভাব এ মনে হচ্ছে সে আমার প্রেমে পড়েছে!!!  যাক এর ভেতরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কাল প্রোগ্রাম সুত্রাং এখন এর সাথে ভেজাল করা মানে নিজের বিপদ ডাকা। সুতরাং যেমন আছে চলুক।কিন্তু জুলির ব্যাপার টা মজাই লাগল, বাড়ি ফিরে নিজকে আয়নার সামনে দেখতে লাগল জুলি।আর হাসছিল। স্পেশালি স্কুটীর উপ্রে হাসান কে দেখে ফিক করে আসা হাসি কোন মতে চেপে রেখে রিকশায় উঠেই হাস্ তে হাস তে বাসায় এসে ও হাসি আর থামে না... বেশ এন জয় করল ব্যাপার টা...  সেই থেকে হাসানের নাম দিল সে ভটভটি ওয়ালা!!

এর মাঝে জুলির চুল ছোট করে কেটে ফেলতে হল স্কিন সমস্যার কারনে।একদিনের ঘটনা জুলি লাইফ স্কিলের প্রোগ্রাম এর অফিস 'এসো গড়ি নিজের জ়ীবন'এর  সিড়ির দরজার সামনে দাড়িয়ে চুল কাটার পর নিজেকে দেখছে হঠাত কোত্থেকে ভট ভটিওয়ালা  উপ্সথিত জুলি তাকে দেখেই দৌড় ভট ভটিওয়ালা হেসে ফেলল ।।জুলি ভাবল আর মান সম্মান কিছুই রইল না এখন থেকে এই চুল আর দেখানো পসিবল না।।জুলি ভাবছে কি ভাবছে ভটভটি ওয়ালা !!সে তো এই কথাকে কাহিনি বানিয়ে বলে দিবে যে আমার চুল ছোট। এতে আমি যে মাথায় ওড়না পেচিয়ে রাখি তাও ফাঁস হয়ে গেল। ইশ একদম ফিনিশদ আমার মান সম্মান কারন ভটভটিকে দেখলেই জুলি মুখ ফুলিয়ে রাখে যাতে বেশি বেশি লাফাতে না পারে। কিন্তু মনে মনে সে খুব খুশ... হাসানের বেকায়দা অবস্থা দেখে!!


ঝগড়া পর্বঃ
লাইফ স্কিল প্রোগ্রাম শেষ... একদিনের ঘটনা। জুলি অফিসে গেল প্রোগ্রামের কাজে, গিয়ে বলল হাসান ভাইইয়া(ভটভটিওয়ালা) আমাকে এই জিনিস গুলো দেন প্লিজ! সাধারনত ভটভটি ওয়ালা দোড় দিয়ে আসে কাজ করতে কিন্তু আজ সে ব্যাতিক্রম সে এক অফিস সহকারি কে ডেকে বলল  এই জিনিস গুলি দিয়ে আয়। এর মাঝেই জুলির সাথে ভাল ঠান্ডা লড়াই হয়ে গেছে হাসানের তার কারনে এই কীর্তি। হাসানের সমস্যা হল মেয়ে মানুষ এত বেশি প্রায়রিটি কেন পাবে??সেই কারনে জুলিকে অপদস্থ করে সে।কারোন জুলি তার আচরনে বুঝতে পারে হাসান খুবি অহংকারি আর মেয়েদের খুব আন্ডারিস্তিমেট করে।খুব কষ্ট পেলেও জুলি কিছুই বলল না কারন হাসান ঝগড়া করতে উদ্যত আর যেহেতু জুলি তাকে এত বেশি পাত্তা দেয় নাই তাই এই টা তার আতেঁ ঘা লেগেছে সুত রাং জুলির পিছে লাগ আর জুলিকে অপদস্থ করতে এক টু ও ছাড় দেয় নাই।জুলি ঘটনা বুঝে ও চুপ কারন সে হাসান কে ভা ল বাসে কিন্তু ......


১জুন ২০১৬...
ব্যাংকক সিঙ্গাপুর।
নিউরো হাস পাতালের কেবিনে এক টা মেয়ে ...চুল গুলি ছোট করে কাটা। জাপানি চেহারার মেয়ে বলে ম্যক্সিমাম জাপানি ই ভাবল মেয়েটাকে।মেয়েটা আর কেউ না ...জ়ুলি... আগের রাতে কেমো দেয়া হয়েছে ।। ডাক্তার এসে এসে তাকে দেখে যায়। জুলির মা বাবা ভাই বোন সহ সব আত্তীয় সজন আসতে থাকেন, মেয়েটার  মন হঠাত করেই ভটভটি ওয়ালার কথা মনে আসে। চোখের কোনে অশ্রু ...।অনেক সপ্ন চোখে  কিন্তু ডাক্তার আর নার্সের আনাগোনায় আর ওষুধের মাঝে সে বেহুশ ভুলে গিয়েছিল তার সব।।শুধু তার মাথায় সেই ভটভটিওয়ালার চেহারা মাথায় আসে।নার্স কে বলে  ফোন দেয় ভটভটি ওয়ালাকে
 ওপাশ থেকে হ্যালো বলে হাসান, কিন্তু জুলি নিরুত্তর কন্ঠ শুনেই লাইন কেটে দেয়।  কাঁদতে থাকে জুলি।তার সুন্দর মাথার চুল গুলি ঝরে যাচ্ছে আর চামড়া গুলি কুচঁকানো হতে দেখে সে অনেক অ স হায় বোধ করে। প্রিয় মানুষ টাকে বলা হবে না সে তাকে ভাল বাসে।এর মাঝেই সে বুঝে যায় হাসান সার্থপর আর হওয়াই সবাভাবিক জেনে বুঝে কে এক মৃত লাশ কে ভাল বাস বে ???? মেয়েটার মাঝে বোধ আসে যদি আমি সুস্থ হয়ে যাই ভাল হয়ে যাই তাহ লে আমি আমার  জীবন কে মানুষের উপকারে কাজে লাগাব।আর এমন কাউকে  ভাল বাসব যে আমাকে অনেক অনেক ভাল বাসে।


মার্চ ২০১৭
অনেক যুদ্ধের পর জুলি সুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম ফেরে।কিন্তু এ অন্যরকম জুলি। আগের মত হাসি নাই আনন্দের চিনহ অ নাই যে জুলি সবাই কে মাতিয়ে রাখত সে এখন নিজের মত করে চলে।লাইফ স্কিলের সেই জায়গায় আর তেমন যায় ও না। কিছুদিন পর পর তার এক এক রকমের টেস্ট হয়, ঢাকা চট্ট গ্রাম সিঙ্গাপুর এই হল জুলির লাইফ, লাখ লাখ টাকা শেষ প্রায়। কিন্তু চিকিতসা এখন শেষ হয় নাই। এত কিছুর মাঝেও জুলির সামনে ভটভটি ওয়ালার চেহারা ভেসে উঠে কিন্তু ভট ভটি ওয়ালা তো চলে গেছে। জুলি ভাবছে টাকা যোগ্যতাই কি সব একজন মানুষের জীবনে?? অসুস্থ হবার পর সে শিখেছে দেখেছে অনেক কিছুই। কিন্তু আজো সে ভট ভটী ওয়ালার স্কুটীতে বসা ছবি সামনে দেখে আর ভাবে কোন একদিন সে ভটভটীওয়ালার পেছনের সিট টা দখল করবে আর বলবে তোমার মত আহাম্মক বিরল প্রজাতির  প্রানি আমি লাইফে দেখি নাই যে মেয়েদের স্কূটার চালায়!!  এক কাজ কর তুমি আমার পেছনে বস কারন একটা মেয়ের জন্য এই স্কুটি তোমার জন্য না। কিন্তু এই কথা গুলি শুধুই জুলির কল্পনা বাস্তব তার চে নিষ্ঠুর। বাস্তব বলছে জুলির জন্য পৃথিবী টা এমন যতক্ষন নিঃশাবস আছে ততক্ষন।




মার্চ ২০১৮
জুলি সম্পুর্ন সুস্থ। ডাক্তার রা ঘোষনা দেয়,অনেক চেষ্টা আর নিয়মিত চেকাপ এ জুলি ভাল হয়ে গেছে এই সময় টায় তার মা তার সব চে কাছে ছিল আর একজন আপি যিনি প্রায় খোঁজ নিত জুলির ।অনেক দিন পর জুলি আবার ও লাইফস্কিলের প্রোগ্রামে যায়। চুল গুলি আর বড় করা হয় নাই এত ঝক্কি যে গেছে তার উপ্রে। সবাই ই তাকে অনেক উইশ করে কাম ব্যাক করার জন্য।
হঠাত...

জানালা দিয়ে জুলির চোখ চলে যায় সাদা রঙইয়ের তার প্রিয় ভটভটির দিকে... জুলি বুঝতে পারে ভটভটিওয়ালা হাসান আছে অফিসে। জুলির মাঝে আগের মত আর ভাল বাসা নাই সে এখন অন্যরকম...
সরাসরি সে হাসানের ডেস্কে যায়... হাসান ভাইয়া... হাসান তাকে দেখে হাসি দেয় অনেকদিন বাদে দেখা হবার কারনে যাকে বলে সৌজন্যতা... জুলি ব্যাগ থেকে একটা ইনভেটেশান কার্ড দেয় হাসানের হাতে...হাসান হতভম্ভ!! ঘটনার আক স্মিকতা তাকে আপ্লুত করছে না কিন্তু একটু অবাক সে।
আপা এইটা কি??বুঝেও যেন না বুঝার ভান ...। বিয়ের দাওয়াত  ভাইয়া আপনি কিন্তু অবশ্যি আসবেন নাইলে আমি কষ্ট পাব।হাসান এর চেহারা দেখার মত তখন । জুলি সবাইকে বিয়ের দাওইয়াত দিয়ে দ্রুত অফিস থেকে বেরিয়ে যায়। অফিসের সামনে ভটভটি টাকে  হাত দিয়ে ছুয়ে দেয় সে। চোখের কোনে পানি  কারন সে জানে ভটভটি ওয়ালা ইস মুভ অন......
কিন্তু
এমন যদি হত  সে ভাবছে  ভট ভট শব্দে স্কুটী তে চেপে পৃথিবীর বিরল এই প্রানী টা  তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলত আমি তোমাকে ভাল বাসি তুমি যেমন ই থাকো না কেন আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না, এত আসলে ভাবনা।

ঢাকা টু নিউ ইয়র্ক গামি একটা প্লেনে জুলি ও তার সবামি। হাতটা একটু ধরবে আমার... সোহেলের .আবদার, চশমা পড়া জুলি তার হাত টা ধরে আর ভাবতে থাকে এই হাতটাই তো আমি ভটভটি ওয়ালার ধরতে চেয়েছিলাম।। জুলির ভাবনায় ছেদ হয়  সোহেলের কথায়... তুমি কোথায় হারিয়ে গেছ জুলি?? এদিকে সরে আস জানালাটা বন্ধ কর নয়ত ঠান্ডা লাগবে তোমার। জুলি তাকিয়ে থাকে সোহেলের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে। চুপ চাপ দেখে সোহেল জানতে চাই তোমার কি খারাপ লাগছে দেশ ছেড়ে যাবার কারনে?? জুলি এইবারে কাদঁতে থাকে।সোহেল মাথায় হাত বুলোয় তার বলে তোমার ভালোর জন্য ই দেশ ছেড়ে আসা নয়ত আস তাম না তোমার শরীর খারাপ হয়ে যায় অল্পতেই ভাল চিকিতসা পেলে তুমি আর সিক হবে না আর তোমার জন্য এনভায়রমেন্টাল চেঞ্জ টা দরকারি ছিল। প্রমিজ করছি ২ বছর পর আমরা আবার দেশে চলে আসব।
সোহেলের কথার কোন উত্তর না দিয়ে জুলি চোখ বন্ধ করে ঘুমাতে চেষ্টা করে । কিন্তু ঘুম আসছে না ওর। ২বছর বিদেশ বিভুয়ে থাকার চে বড় কথা হল হাসান ভটভটিওয়ালাকে সে আর কোন দিন দেখবে না আর টাইম টু টাইম তার পিছে লেগে থাকা ত দুরের কথা তার মেয়েলি স্কুটার টাও দেখা হবে না সাথে ইচ্ছে হয় এক লাফ দিয়ে প্লেন থেকে নেমে যায় আর চট্টগ্রামে পৌছে গিয়ে ভটভটি ওয়ালা কে বলে তুমি এত সার্থপর কেন?? কিন্তু এসব কিছুই হয় না।
হঠাত জুলি বলে উঠে সোহেল আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই। সোহেল তাকায় জুলির দিকে ... আরষ্ট ভাবে জুলি বলতে থাকে আমি একজন কে ভাল বাসি  আমি জানি তুমি আমাকে বিয়ে করেছ কোন লোভএ  নয় আমার সবচেয়ে খারাপ সময়ে তুমি আমাকে সব জেনে শুনেই বিয়ে করেছ কিন্তু আমি তোমাকে সেইরকম ভাবে কখন ভাল বাস্ তে পারব কিনা জানিনা কারন আমি সত্যি ই কনফেস করছি আমি তোমার চে বেশি তাকে ভাল বাসি। সোহেল চুপ করে শুনতে থাকে।
সে আমার ভাল বাসা নয় শুধু তার চে বেশি কিছু, আমি তাকে না জেনে শুনেই ভা ল বেসে ফেলেছিলাম। আমার দিন রাতের শয়নে সবপনে সে ছিল আমার নায়কের মতন ।সিনেমায় যেমন নায়িকা কল্পনা করে তার নায়ক কে তেমন বলতে পার সুপার হিরো,আর আমি তার হিরোইন।কিন্তু জান এই যে তুমি আমার সব জেনে শুনে আমাকে বিয়ে করেছ সব কিছু জেনে তুমি আমাকে আগলে রাখছ সে এইটা করে নাই ... তার কাছে ইম্পরটেন্ট ছিল আমি সুস্থ কিনা দেখা যখন জানতে পারল আমি সিক তখন এক বারের জন্য ও আমার খোজঁ করে নাই কিন্তু যেইদিন আমি স্কিল্ড প্রফেশনাল এর বেস্ট সার্টি ফিকেট টা পেলাম সে আমার কাছে দৌড়ে আসে & বলে খাওয়াতে হবে। এর আগ পর্যন্ত আমার কোন ফিলিংস্ কে মুল্য দেয় নাই। জানো সোহেল সেইদিন আমি সার্টিফিকেট টা হাতে নিয়ে অনেক কেদেঁছিলাম কারন আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমার মুল্য জাস্ট এই সার্টিফিকেটের জন্য মানুষ হিসেবে নয়। আমি এর পর যখন দেখলাম সে মানুষ টা আমাকে দেখায়ে মিন করছিল আমি তার যোগ্য না আমি চুপ চাপ চলে আসি কারন আমি আল্লাহর কাছে এমন কাউকে চেয়েছিলাম যে আমাকে কাগজের বউ বানিয়ে সম্মান দিবে না।আজ আমি আবারো কাদঁছি কেন জানো??তোমার কারনে। যার কাছে আমি আশা করেছিলাম সে আমাকে অপদস্থ করতে একটু খারাপ ফিল করে নাই কিন্তু আমি তোমার কাছ থেকে তার চে বেশি পেয়েছি...আর নিজেকে বড় অপরাধি ভাবছি কারন আমি তোমাকে ধোঁকা দিতে পারব না... আমি তোমাকে ভাল বাসি না সোহেল।
সোহেল অবাক হয় নাই। কারন জুলির কাছ থেকে এটা তার পাবার কথা দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে সে অনেক্ টাই  বদলে গেছে। শান্ত ভঙ্গিতে সে বলে তাহলে এখন কি করতে চাও?? ফিরে যেতে চাই জুলির জবাব।
এইবার সোহেল নড়ে চড়ে বসে,মানে????? মানে আমি নিউ ইয়র্ক যাচ্ছি না ।তুমি কি পাগল হয়েছ জুলি???
আমি আমার মনের কথাই জানালাম তোমায়। জুলির উত্তর।
আমাকে তাহলে বিয়ে করেছ কেন?? সোহেলের প্রশ্ন।
আমি জানিনা কিছুই ।।জুলি বলে আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি আমি আসলেই বুঝতে পারছি আমি ভুল করেছি আমি আমার পছন্দ কে গুরুতব দেই নাই অন্তত একবার আমার বলা উচিত ছিল আমি কি করব বল সোহেল??
এইভাবে তুমি আমার লাইফটা বরবাদ করতে পারো না জুলি...চিতকার করে সোহেল বলতে থাকে, তোমার জানা উচিত আমি তোমাকে বিয়ে করেছি তোমার কিছু ভাল গুন আছে দেখেই ...এখন আমি কেন এখন বঞ্চিত হব?? প্লেনের ভেতরে এই চিল্লাচিল্লি তে সবারি নজরে পড়ে যায় তারা। আর এই অবস্থা যখন তখন কে যেন পেছন থেকে বলে উঠে আপনারা কি শুরু করলেন ??ফ্যামিলি ম্যাটার বাড়ীতে সল্ভ করে আসতেন এখন এইখানে তামাশা করছেন কেন??

প্লেন দুবাই থামে।এর মাঝে ২জন ২দিকে মুখ ঘুরিয়ে তাকিয়ে থাকে বিষন্ন দৃষ্টি তে। জুলির মনে খালি ভটভটি ওয়ালা আর সোহেল সে জুলির মুখের দিকে অস হায় হয়ে তাকায় যেন প্রার্থনা করছে জুলি তার সিদ্ধান্ত যেন বদলায়।
জুলি বলে আমাকে এখান থেকে বাংলাদেশ গামি টিকেট করে দাও। সোহেল জুলির হাত টা শক্ত করে  ধরে বলে জুলি তুমি পাগলামো করো না প্লিজ আমাকে অন্তত একবার তোমার পাশে থেকে সুযোগ করে দাও তোমাকে ভাল বাসার তোমার জন্য কিছু করার,আমি তোমার ভাল বাসার যোগ্য হতে চাই।

আমি কি করব আমার মন ত পড়ে আছে তার কাছে আমি তাকে ভুলতে পারছি না।জুলির সহজ উত্তর।
আমি ভুলিয়ে দিব, সোহেল বলে, আমি তোমার মনের মত হব।জুলি বলে সেও কি সম্ভব??? তার জায়গা ত আমি আর কাউকে দিতে পারব না সোহেল তাহলে এই বিয়ে টিকিয়ে রেখে লাভ কি?? জুলি বলে। যে তোমায় ভা ল বাসে না যে তোমার চেহারা দেখতে রাজি না তার কারনে তুমি তোমার সংসার ছেড়ে দিবে???? !!! আমাকে ছেড়ে যেতে তোমার একটু খারাপ লাগবে না?? সোহেল বলতে থাকে ... তুমি এত বোকা কেন জুলি??তুমি কেন এত সরল ??সে যদি তোমাকে ভাল বাসে তাহলে আমি নিজে তোমাকে তার কাছে রেখে আসব আমাকে বল যে সে তোমাকে ভাল বাসে। জুলি নিশ্চুপ।অঝোর ধারায় কাদঁতে থাকে সে, সোহেল তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলে সে বলে আমাকে একা ছেড়ে দাও। সোহেল বলে ছেড়ে দেয়ার জন্যত আমি তোমাকে আমার সাথে করে আনিনি।এই কথা শুনে চোখ তুলে তাকায় সে...
 ১টু মুচকি
হাসি দেয় জুলি।তুমি আমাকে এইরকম করলে ত আমি আর বাংলাদেশেই যাব না। হাহাহা এই না বললা চলে যেতে চাও।সোহেলের অনুযোগ। যেতাম কিন্তু যেই ভাবে তুমি আমার পিছে কাঠাঁলের আঠার মত লেগে আছ যাওয়ার কোন চান্স আছে?? জুলির  মুখের উপ্রে জবাব। অল্প কিছুক্ষনের ভেতরে ২জন ই হাস তে থাকে।উফ আমি যা ভয় পেয়েছিলাম তোমার কথায় ভেবেছিলা সত্যি ই তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।
শুনো এত খুশি হবার কিছুই নাই যদি দেখি তুমি ও সেইরকম তাহলে আমি টিকেট কেটে চলে যাব।
হা হা হা  সোহেল হাস তে থাকে আর বলে যেও তাও ২বছর পর আমাদের ফ্যামিলি বানিয়ে...কট মট চোখে তাকায় জুলি।দুবাই এয়ারপোর্টের লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে ২জন এ নিউই ইয় র্ক গামি  প্লেনে চড়ে  নতুন আলোয় তাদের সপ্নের ঘর বাধঁতে...
পেছনে পড়ে থাকে সেই ভট ভটি ওয়ালার প্রতি অকৃত্তিম ভাল বাসা

Tuesday, August 1, 2017

অব্যাক্ত ভাল বাসা

আজ আম রা প্রেম করছি কত বছর হল?? কেন?? প্রশ্ন হাবিবের...  তারা র দিকে  সুচা লো চোখে তাকায় সে...
আমার ব্রেক চাই!!!  কি???? হাবিব লাফিয়ে উঠে বলল  কী বলছ তুমি?? পাগল তো হয়ে যাও নি......
তোমার মতন  ছেলের সাথে প্রেম করাটা আমার ভুল হয়ে গেছে...... তারার সহজ উত্তর। কেন??  কারন আমি ভেবেছিলাম তুমি দায়িতব হীন থাকবে নাহ কিন্ত গত ৪বছরে আমার এই  ভাবনা পালটে গেছে!!! তাই  আমি ঠিক করেছি আমার ব্রেক চাই......... হাবিব নিরু ত্তর ঘটনার কিছু বুঝে উঠার আগেই গালে একটা চড় যে বসে গেছে তা সে টের পেল  যখন বন্ধু রাফি তাকে প্রশ্ন করে কিরে তোকে এইরকম চিনহ দিয়ে গেল কে??
হাবিবের মন খারাপ প্রেমিকার হাতে মার তো খেয়েছেই তার উপর ব্রেক আপ!!!!! সে কিছুতেই এইটা মানতে পারছে নাহ!!!! কারন সে এমন কিছুই করেনাই যার কারনে তারা তার উপরে এইরকমখেপে গেছে।।অবশ্য আগেও এরকম হয়েছে কিন্তু আজকের টা সিরিয়াস............  হাবিব গালে চড় খেয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছে কেন এমন করল তারা?? ............
৭দিন পর......
 হাবিবের গাল এর দাগ ভাল হয়েছে সে এখন তারার সাথে ফেস টু ফেস কথা বলতে চায়  কেন তারা এইরকম আচ্ রন করল জানার জন্য ... এর মাঝে বন্ধু রাফি কে সব কিছু বলা হয়ে গেছে...... রাফি আর হাবিব বসেছে আর এক বন্ধু সায়মনের বাসায়, তুমুল আলোচনা্‌;তারা কে নিয়ে সিদ্ধান্ত হল যে করেই হোক তারার সাথে হাবিবের সম্পর্ক ঠিক করতে হবে। কিন্ত কিভাবে?? তারার বান্ধবি দিয়া কে খবর দেয় হাবিব আর তার বন্ধুরা।। হাবিব তো চড় খেয়ে চুপ কিন্ত বন্ধুরা তাকে প্রতিবাদ করতে বল ল কিন্তু নরম মনের মানুষ বেচারা হাবিব সে বল ল আমারি দোষ ছিল আমিই অন্যায় করেছিলাম ওর জন্মদিনে ওকে আমি বেড়াল গিফট করেছিলাম!!!ভেবেছিলাম ও খুশি হবে কিন্ত এইরকম ভাবে ব্রেক আপ আমি ভাবিনি............ মুখ লুকায় সে... রাফি বলে উঠে তুই বেটা মেয়ে মানুষের চড় খেয়ে এসে আবার বলিস  নিজের দোষ!!আমার গার্ল ফ্রেন্ড এইরকম করলে তো আমি তারে..................
মেয়েমানুষ কে মাথায় তুলতে নাই বুঝলি?? হাবিব হাসে রাফির ক থায়। সায়মন আর জিকু হাবিবের আর ২বন্ধু এসে জুটে তাদের সাথে। কি আর করা আমাদের কপাল খারাপ আমাদের বন্ধু হাবিব গার্ল ফ্রেন্ড এর হাতে মারের চিনহ নিয়ে এসে আমাদের প্রেস্টিজ় এর ১২টা বাজায় দিসে এখন ব্যাপার হল বাকিরা যেন এই ব্যাপার টা না জানে আই মিন রাফির গার্লফ্রেন্ড যদি এই কথা জানে তাহলে পই পই করে বলে রাখছি আমি, ছেড়ে কথা বলবে নাহ রাফিকে......মুচকি হাসির সাথে বলছে জিকু......
রাফির মাথা গরম হয়ে যায় জিকুর কথায়...দৌড়ানি দেয় জিকু কে জান বাঁচাতে সে যায় হাবিবের কাছে হাবিব থামায় রাফিকে ...এই অবস্থায় তারার বান্ধবির সামনে পড়ে যায় জিকু!!!!!মাত্র ইন করল  দিয়া!!বেচারা জিকু...... এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়বে ভাবে নাই মনে মনে গালাগাল করতে লাগ ল রাফি কে  তার কারনে মান্ সম্মান যাওয়ার উপক্রম......
আসসালামু আলাইকুম আমি দিয়া ...তারার বান্ধবি...... জিকু কাচুমাচু  করে তারার সালামের উত্তর দিয়ে তাকে বস্ তে বলে ভেত রে হাবিব কে ডাক দিল। হাবিব ,জিকু,সায়মান আর রাফি ৪জন ই আস ল।দিয়া এক টু ভয় পেল কারন সে হাবিব ভাই কে চেনে সাথে যে তার বন্ধুরা আসছে...অপ্র স্তুত দিয়া।হাবিব অভয় দিয়ে বলল দিয়া ভয় পেও না এরা আমার বন্ধু ... তারা কেমন আছে?? তোমার সাথে কি ওর কথা হয়েছে?? হাবিব খুব ই আকুল তারার কথা জানতে......। হাবিব ভাই আপনি চিন্তা করবেন নাহ ও খুব ভাল আছে আর আপনি তারার  সাথে যোগাযোগ করেন না কেন?? হাবিব নিশ্চুপ কি বলবে?? অম্ নি জিকু বলে উঠল কিভাবে যোগাযোগ রাখবে  আপনার বান্ধবি যেই ডেঞ্জারাস মেয়ে আমার ভোলা ভালা বন্ধুকে যা আআ...... সায়মন জিকুর মুখে হাত দিয়ে দিল।দিয়া থ!! কি হচ্ছে এইসব?? এক টূ বলেন তো হাবিব ভাই?
দিয়া... তোমার বান্ধবি আমার সাথে রিলেশান ব্রেক আপ করেছে আর......
আর?? দিয়ার প্রশ্ন
গাল ঘুরায় দেখাল হাবিব তারার কীর্তি!!!!!
দিয়া হাসছে... হা হা হা হাবিব ভাই  আপনি এত ভাল কেন??কেন তারাকে এক টা বকা পর্যন্ত দেন না??এই নিয়ে সে ৮বার ব্রেক আপ করেছে আপনার সাথে কিন্ত সে নিজেই আবার এসেছে আপনার কারনে...  এত কিছুর পর ও ছেড়ে থাকতে পারেন নাহ......
হাবিব চুপ।আমি অনেক ভাল বাসি তারা কে দিয়া কিন্ত আমার মাথায় ওর মত বুদ্ধি নাই এইটাই প্রব লেম।আর আমার এই বন্ধুগুলি এত কিউট যে তারা জানে আমি কোনভাবেই তারা কে ছাড়া চলতে পারব নাহ তাই তারা আমার এই সমস্যার কথা জেনেও আসছে। আর তুমিই বল আমি কি করতে পারি এখন??
দিয়া এখন চুপ...আমাকে ভাবতে দিন। আমি জানি আপনি গত ৭দিন কেদেঁছেন তারার জন্য কিন্ত তারা যে ঘুরে বেরিয়েছে আমাদের নিয়ে এই খবর ও আপনি জানেন ,ভাইয়া যে মেয়ে আপনাকে এক টু কদ্ র করে না তার পিছে কেম নে আপ্নি??আজব মানুষ আ্পনি... হাবিব চুপ।সায়মন বলএ উঠল এই মেয়ে তুমি আমার বন্ধুকে সমস্যার সমাধানে হেল্প করবে নাকি লেকচার দিতে আসছ??হাবিব তাকে থামায়। সায়মন বলে তুই চুপ থাক আমরা জানতে চাই এইরকম চড় দেয়ার কারন কি হাবিবকে??সে হয়ত কিছু বলে নাই কিন্ত এইভাবে একটা ছেলের গায়ে হাত তোলার মানে কি??তোমার বান্ধবির এত সাহস কি করে হয়?? দিয়া দাড়িয়ে যায় ......ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়ার আগেই হাবিব সায়মন কে থামায় তোরা চুপ কর সব। আমি কোন সমস্যা চাই না আমি চাই তারা ফিরে আসুক।
বন্ধুরা মন ছোট করে যা তুই আরো একটা চড় খা গিয়ে............।কিন্ত আমরা যাব না তোর সমস্যা সমাধান করতে।
প্লিজ থামুন আপনারা। দিয়া ব লে উঠে। ঝগড়া না করে সমস্যার সমাধান করা দরকারি। সবাই চুপ হয়ে যায়।আসলে
আমরা যদি তারা আর হাবিব ভাই কে একসাথে করতে চাই তাহলে আমাদের ১ম এ তারার সাথে আলাপ করতে হবে জানতে হবে সে কি চায়??এইভাবে তো চলা মুশকিল তাই নাহ হাবিব ভাই??হাবিব মাথা নাড়ে। বাকি রা ও একমত হয়
ঠিক আছে আমি তারার সাথে আলাপ করব আগামিকাল।কিন্ত সেই পর্যন্ত আপনাদের অনুরোধ কেউই হাবিব ভাই কে কুপরামর্শ দিবেন নাহ প্লিজ কারন বন্ধুর ভাল করতে গিয়ে যদি ভুল হয় তাহলে তার জন্য আপনার ও দায়ি থাকবেন।
চলি।দিয়া বেরিয়ে যায়।।
বুদ্ধিমতি মেয়ে!!জিকু বলে হাবিবের দিকে তাকিয়ে তুই এই মেয়ের সাথে প্রেম করতে পারলি নাহ??বেকুব কোথাকার!!
আচ্ছা তুই যেহেতু পারিস নাই আমাকে বল আমি ট্রাই করব । হাবিব এইবারে খেপে যায় আমার জীবন মরন সমস্যা আর তুই আছিস তোর তালে.....................

রাফি আর সায়মন ডাক দেয় তাদের রাতের ডিনার করতে ......সেই বাড়ীতে রাত কাটায় তারা...
হ্যালো ?? কে তারা??
ওপাশ থেকে তারা বলে দিয়া?? কেমন আছিস??
দিয়া জিজ্ঞেস করে তারা তুই হাবিব ভাই কে কি বলেছিস আর কি করে আসছিস?? তারা বলে দেখ আমি আর এই ব্যাপারটাই নাই।
কেন?? দিয়ার প্রশ্ন। তুই কি আমাকে এই কথা বলার জন্য ফোন করেছিস? হু দিয়ার সরাসরি উত্তর। তারা ফোন কেটে দেয়।
 ৩মাস পর.........
দিয়া র বিয়ে,
বন্ধুরা প্রায় সবাই এসেছে,শুধু তারা বাদে,হাবিবের বন্ধুরাও উপস্থিত।তাদের চোখ এখন তারা বিয়েতে আসছে কিনা সেটা দেখার অপেক্ষায়,দিয়াকে সবাইই উইশ করছে কিন্ত দিয়াকে উইশ করতে তারা আসবে নাহ এইটা কেউ ভাবে নাই। হাবিব ও আসছে বিয়েতে, কারন দেখা হবে তারার সাথে এই আশায়, তারাকে কন্টাক্ট করে পাওয়া যায়নি,দিয়ার মন খারাপ তারা ওর বেস্ট ফ্রেন্ড কিন্ত সে এল না..... সবাই ই তারার আসার অপেক্ষায়, দিয়ার হাজবেন্ড দিয়াকে প্রশ্ন করল কি ব্যাপার আমি থাকতে কার জন্য গেটের দিকে তাকিয়ে আছ?? দিয়া হেসে ফেল ল। আমার এক বন্ধুর জন্য সে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।

হলিফ্যামিলি হাস্পাতাল......... তারার মা বাবা ২জন ই হাটছেন। ডাক্তার আসেন আর যান এক টু  পর পর। তারার ব্রেনের একটা সমস্যা ধরা পড়েছে কেউই জানে না  হঠাত ই চেহারা ভুলে যাওয়া একজিনিস কে ২বার খোজা এইরকম কিছু সাইন দেখছেন ডাক্তার, তারার ছোট ভাইটা কাদঁছে আপুনি কি আর ভাল হবে নাহ ?? তার প্রশ্ন...
বেডে শোয়া তারা তার ভাইটি কে ডেকে বল ল শোন দিপু আমার একটা কাজ করে দিবি?? কি কাজ আপুনি? আমি তোকে দিয়ার বিয়েতে যেতে বলছি তুই এ্ক টু যা...দিয়া জানে না আমার এই অবস্থা।।দিপু বল ল হাবিব ভাইকে জানাই?? তারার উদাস দৃষ্টি ...... না............ কেন?? কেন আপুনি?? আমি চাই না সে আমাকে এই অবস্থায় দেখুক,তার কাছে আমি যেভাবে ছিলাম সেইরকমই থেকে যেতে চাই। এ তোমার কেমন ভাল বাসা আপুনি??তুমি নিজেকে এইভাবে আড়াল করছ কেন? জানিস পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে বরাবরই আমার মত পাগল কিসিমের!!!!! আনন্দ গুলি তাদের কাছে অল্প সময়ের জন্য... তারা উপরে দেখায় একরকম আর ভেত রে অন্যরকম তাদের বোঝা আসলেই দায়...... তারার উদাস হাসিমাখা জবাব। তারা আরো বলতে থাকে আজ আমি হাবিবকে অনেক মিস করেছি কিন্ত তার গালে যে চড় টা দিয়েছি তার কারন সে যেন আমাকে ভুলে যায় কিন্ত ব্যাপার কি জানিস সে আসলেই আমাকে অনেক ভাল্ বাসে যার যোগ্য আমি নই,তাকে এত জালিয়েছি যেন সে আমার থেকে দূরে সরে যায় কিন্ত সে আমাকে সরে যেতে দেয়নি...... হু হু করে কেদেঁ উঠে তারা আমি যে মারা যেতে পারি যে কোন সময় সেই কথাটা বলার মতন সাহস আমার হয় নাই কারন বড় লোভী আমি হাবিবের ভালবাসার্‌, আমি কি করব বলতে পারিস দিপু??
দিপুর চোখ বেয়ে অশ্রু.........আপুনি তোমার কিছুই হবে নাহ দেখো... মিথ্যা আশা দিস নাহ আমাকে আমি জানি বাবা মা তিল তিল করে যে টাকা রেখেছে ...আমার জন্য তার কিছুই থাকবে নাহ... তার চে যে কয়দিন বেচেঁ আছি আমি সেইকয়দিন আনন্দে কাটাই,দিপু কাদঁছে......... ভাই আমার তুই যাহ দিয়ার বিয়েতে আমি এক নজ র হাবিবকে দেখতে চাই শেষবারের মত ন।দিপুর নিঃশব্দ হাহাকার.........ওকে আমি যাচ্ছি।
ওদিকে দিয়ার বিয়েতে সবাই ই খুশি আড্ডায় ব্যস্ত, সায়মন,রাফি, হাবিব একপাশে আর জিকু বসেছে দিয়ার কাছে... আহা কি সুন্দর লাগছে ২জন কে তাই নাহ??রাফি বলে উঠল। বাকিরা মাথা নাড়ে কিন্ত হাবিবের সেইদিকে খেয়াল নেই সে তাকিয়ে আছে গেটের দিকে, হাবিব এই হাবিব কিরে মড়ার মতন হয়ে আছিস কেন?? তারা কে কল দিয়ে লাভ নাই ও আর আসবে নাহ ওর আশা বাদ দে জাস্ট মুভ অন দোস্ত। হাবিব নিরুত্ত্ র, তারা আসবে এই আশায় বসে আছে সে.........চড় না হয় একটা বেশিই দিবে গালাগাল দিবে কাজকর্মের জন্য কিন্ত সে অবশ্যি আসবে এই এ্কটা আশায় সে বসে আছে,
দিয়ার পাশে দিয়ার বর বসে  আলাপ করছে সবার সাথে ঠিক সেইমুহুর্তে দিপু কে গেটের কাছে দেখে হাবিব দৌড়ে যায় ,দিপু এতদিন কোথায় ছিলে তোমরা??? আমি তোমাদের বাসা পর্যন্ত গিয়ে ফেরত এসেছি,পরে খোজঁ নিয়ে জানি তোমরা চলে গেছ বাসা ছেড়ে, দিপু কাঁদছে ভাইয়া আপনি আপুনি কে মাফ করে দিয়েন... কেন??কি হয়েছে??হাবিবের প্রশ্ন।ভাইয়া আপুনি অনেক অসুস্থ ব্রেনের একটা নার্ভ এ অক্সিজেন আর ব্লাড সারকুলেশান ঠিক মত হয় নাহ......হাবিব থ!!আপুনি আমাকে বলতে না করছিল আপনাকে কিন্ত আমি বলে দিলাম  আপুনির এই সমস্যা অনেকদিনের  সেকারনেই হয়ত আপুনি এইরকম করত আপনার সাথে, তার ইচ্ছা ছিল আপনাকে বিয়ে করবে কিন্ত .........
হাবিব একটা মুহুর্ত  আর শুনল নাহ... রাফি... রাফি এই রাফি আমি বিয়ে করব এক্ষুনি... রাফি সহ বাকিরা থ!! কি হল হঠাত!! হাবিব কি বলছে এসব!!তারা ভাবল তারার শোকে সে বিয়ে করবে কিন্ত পাত্রি???আর হাবিবের সাথে দিপু ??? ঘটনা কি?? কিছুই বুঝতে পারছে না সবাই
সায়মন রাফি জিকু সহ বাকিরা দৌড়ে এল। কি বলছিস তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি দিয়ার বিয়ে দেখে?? নাহ আমি আজকেই বিয়ে করব এবং তা এক্ষুনি !! কাকে বিয়ে করবি??রাফির প্রশ্ন?সেসব পরে জানবি এক কাজ কর দিয়ার বিয়ের কাজি কে বল আমাদের সাথে গাড়ীতে আসতে, আর জিকু তুই যাহ বিয়ের  শাড়ী কিনে আন বন্ধুরা  থ কি বলছে হাবিব আর কি করছে !!! সায়মান বলে উঠে তোর কি মাথা ঠিক আছে??কি করছিস এসব??আমার মাথা সম্পুর্ন ঠিক আছে যদি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে থাকিস গাড়ী নিয়ে চলে আয়, আর কথা বলবি  না, কিন্ত আমরা যাচ্ছি কোথায় জিকুর প্রশ্ন ...গেলেই দেখবি হাবিবের উত্তর ,আর দিপু ??তুমি তারার ভাই নাহ??সায়মান সিউর করে... হু বলে দিপু,কি হয়েছে ??দিয়া এরই মাঝে এসে গেছে বর সহ,কিছু নাহ দিয়া তুমি যাও এখন দিয়া পরে সব বল ব।হাবিবের উত্তর, দিয়া কিছু বলার আগেই ৪বন্ধু এক গাড়ীতে দিপু কে নিয়ে সরাসরি হাস্পাতালেরদিকে রওয়ানা হল।
ডাক্তার সাহেব আমার মেয়েটার কি অবস্থা??তারার মা জানতে চান। ডাক্তার আহমেদ নিউরোমেডিসিন এর ডাক্তার তিনি একটু চিন্তিত কারন তার ভয় এই নার্ভটা ফুলে যদি জমাট বেধে যায় তাহলে সেটা ব্রেন টিউমার পর্যন্ত যেতে পারে।তাই উনার আশা যে তাড়াতাড়ি ট্রিট মেন্ট শুরু করা কিন্ত......
হাবিব্ ও তার বন্ধুরা হাস্পাতালে পৌছে গেছে,রাফি এতক্ষন চুপ ছিল এখন প্রশ্ন করে বস্ ল কিরে তুই না বিয়ে করবি কিন্ত হাস্পাতালে কেন??পাত্রি কি ডাক্তার নাকি ?হাবিব মাথা নাড়ে নাই  দিপু কে দেখে ও যে রাফি গাধার মত প্রশ্ন করে বসেছে এইটা সবাই বুঝলেও সে বুঝে নাই।
রাফি তোর মুখ টা বন্ধ কর।আমি আবার কি করলাম?প্লিজ চুপ  কর হাবিব এইবার বলে উঠে।হাবিবের গায়ে বরের পোশাক নেই কিন্ত তার ভেত রে কি যাচ্ছে সেইই জানে।সোজা কেবিনের দিকে যেতেই নার্স একজন তাদের আটকায়,কি ব্যাপার আপনারা কারা আর এইরকম পোশাকে কোথায় যাচ্ছেন??তারার মা বাবা হাবিবকে চেনেন না কারন তারা হাবিবের ব্যাপারএ তাদের কিসসু জানায় নাই হাবিব আজকে অন্যরকম,ডাক্তারকে ম্যানেজ করে তারার রুমে সবাই ঢুকে যায় সাথে বিয়ের কাজি। তারার বাবা মা অপ্রস্তুত... কি হচ্ছে এসব?? বন্ধুরা থ হয়ে তামাশা দেখছে কারো মুখে টু শব্দ নেই তারাকে হাস্পাতালে দেখে সায়মন,রাফি জিকু থ !!!তাকিয়ে আছে একে অন্যের দিকে।কাজি সাহেব বিয়ে পড়ান হাবিবের সহজ আর্জি!!তারা চোখ মেলেছে তখনি,বিস্ফারিত নেত্রে তাকায় হাবিবের দিকে!!! সে কি ভুল দেখছে নাকি !!!!!হাত দিয়ে ছুয়ে দেখল হাবিবকে !!নাহ আসলেই হাবিব, হাবিব তারাকে কিছুই বলার সুযোগ না দিয়ে বলতে লাগ ল তুমি আমাকে কি ভেবেছিলে??বাকি সব ছেলেদের মতন আমি??সার্থপর?? তুমি কি জান না আমি তোমাকে কত ভাল বাসি তুমি যতদিন বেচে থাকবে আমি তোমাকেই ভাল বাসব আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই  তারা এক্ষুনি... তারার চোখে জল।।কাজি সাহেব বিয়ে পড়ালেন, বিয়ের শাড়ীটা তারার শরীরে জড়িয়ে দিল তারার মা
এর মাঝে রাফির জোক শুরু হল। তারা তুমি যা একখান দেখালে!! আচ্ছা হাবিব আমার একটা প্রশ্ন তারার যদি কিছু হয়ে যায় তাহ্ লে কি তুই আর একটা বিয়ে করবি?? তারার সাম্ নেই ...। সায়মন হাস্ ছে রাফির কথায়।।জিকু এতক্ষনে একটু উদাস কারন দিয়াকে প্রেম নিবেদন করবে করবে মনে করে আজকে তার বিয়ে খেয়ে আস ল সাথে হাস্পাতালেই হাবিব তারা কে বিয়ে করে ফেলেছে!!!!
বন্ধু হাবিব তো বিয়ে করল এখন আমাদের কি হবে?? সায়মানের প্রশ্ন ..আমি ভাবছি অন্য কিছু রাফির কথায় ঘুরে গেল টপিক!!!   হাবিব আজকে যা দেখাল তা আস্ লেই বেশ সাহসি কাজ কিন্ত ও কিভাবে এইটা করল?? আসলে মানুষ যে রিয়েল লাভ করতে পারে হাবিবকে না দেখলে আমরা বুঝতাম নাহ কি বলিস জিকু?? হু? জিকুর উত্ত র.. কিরে তুই কই আছিস??রাফির প্রশ্ন... এই করতে  করতে সবাই রাত টা হাস্পাতালেই কাটাল,..
এদিকে তারা আর হাবিব..... আমি ভাবি নাই তুমি আমাকে এত  বেশি............  কাঁদছে তারা... আমি জানি আমি তোমার যোগ্য না কিন্ত এর পর ও................. হাবিব তারাকে চুপ করিয়ে বলে তুমি আমাকে আজো চিন্ তে পারো নাই ,অবশ্য এইটা আমার কারনেই, আমি  তোমার কাছে হাবাগোবা থেকেছি সরি তারা...
তারার চোখে আনন্দের অশ্রু কারন  তার হারিয়ে যাওয়া আনন্দ গুলি যা কখন ই ফিরে আসার কথা ছিল না তা আজ তারার হাতের মুঠোয়...মনে হচ্ছে আকাশের চাদঁ হাতে পেয়েছে সে জ্যোৎস্না ভরা রাতের আলোয় ২জনের  অব্যাক্ত কথাগুলি যেন ফুটে উঠছে............নতুন ভোরের আলোয়  শুরু হল  অব্যক্ত ভাল বাসার নতুন কাহানি !!!!!!!!!!!! 

Thursday, December 10, 2015

না বলা কথা


কিছু না বলা কথা

চশমাটা খুলে জানালায় পাশে ৫০ উর্ধ  এক মহিলা দাড়িয়ে আছেন,  বাইরে কিছু ছেলেরা ফুটবল খেলছিল। মহিলার নাম আফসানা হক। তার ৩ ছেলে। সবাই বিদেশে থাকেন। স্বামী আজিজুল হক মারা গেছেন আজ ১২ বছর্। সেই থেকেই তিনি একাই ছেলেদের মানুষ করেছেন।আজ অনেক সৃতির মাঝে চোখের সামনে ভেসে উঠছে একটা সৃতি ভার্সিটি জীবনের সৃতি জা তাকে আজও কাঁদায়    


Sunday, December 6, 2015

কবিতার ভালোবাসা ......


কবিতার ভালোবাসা ...........

সময়টা ১৯৭৭-৭৮ সালের। পাহাড় ঘেরা  chittagong  এ পড়তে আসা অনেক চিকিৎসকের মত পাস করে সবে ইন্টার্ন শুরু করতে যাবেন ডক্টর হিমেল। পড়তে পড়তে হয়ত  মায়া বসে গেছে এই শহরের ...

বাকি সব দিনের মতই হাস্পাতালে রোগী  আর বইনিয়ে পড়ে থাকা এর সময় পেলে কিছু মেডিকেলি বন্ধু দের সাথে  গল্পে মশগুল থাকা এই ছিল জীবন। ভালই কাটছিল।
আরেকদিকে......... 

Saturday, December 5, 2015

একটি সকাল এবং এক টুকরো হাসি



একটি সকাল এবং এক টুকরো হাসি

বাসর রাতে মেয়েটি স্পষ্ট স্বরে জানিয়ে দেয় –
– এইযে শুনুন, আমি কিন্তু আপনাকে বিয়ে করতে চাইনি
রাহাত বেশ ভদ্র, মার্জিত ছেলে। হাসিমুখে জবাব দেয় –
– হ্যা, জানতাম।
– তো বিয়ে করলেন কেন?
– এমনি
– শুনুন, রাগাবেন না! এমনি কোন কিছু হয় না,
.
রাহাত কি বলবে ভেবে পায় না। বিয়েটা ওর মায়ের ইচ্ছেতেই হয়েছে। মায়ের ইচ্ছের ওপর না বলতে পারেনি। রাহাত চুপ করে থাকে। ইতোমধ্যে মেয়েটি রেগে নাকের ডগা আর মুখ টকটকে লাল করে বসে আছে।
– কি ব্যাপার! চুপ করে আছেন কেন? সোজাসুজি বলে দিচ্ছি, আমি আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না! আর আপনি আমাকে মোটেও স্পর্শ করবেন না!
.

Thursday, December 3, 2015

ফেলে আসা কিছু কথা ( নিঃস্বার্থ প্রেম )

আজ আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি একটি সত্যি কারের প্রেমের গল্প। যেটি ঘটেছিল আমার একজন বন্ধুর জীবনে। যদি আপনাদের ভাল লাগে। আশা করি এটি পড়ে আপনাদের ভাল লাগবে । এই গল্পটি আমার বন্ধু আমাকে নিজের মুখে বলেছে। যেভাবে গল্পটি আমার বন্ধু আমাকে বলেছিল ...............।।

আমি যখন ওমানে ছিলাম তখন একটা মেয়ের সাথে আমার ফ্রেন্ডশিপ হই। ফ্রেন্ডশিপটা হয়েছিল Facebook এ। মেয়েটা ও ওমানে থাকতো। মেয়েটার নাম ছিল তানিয়া। তানিয়া আমার কাছ থেকে ৪০০ মাইল দূরে থাকতো। ফ্রেন্ডশিপ হউয়ার পর থেকে ওর সাথে আমার প্রতিদিন চ্যাট হত। একদিন ও আমকে দেখা করতে বলল। আমি ও দেখা করলাম। যেদিন ওর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম সেদিন ও একটি হলুদ রঙের জামা পড়েছিল। আর সেইদিনই তানিয়াকে আমার ভাল লেগে যাই। হইতবা আমাকে ও ওর ভাল লেগেছিল। সেদিন ও আমার কাছ থেকে আমার মোবাইল নাম্বার নেই। তারপর থেকে ওর সাথে আমার প্রায় ফোনে কথা হই। একদিন সে আমা্কে বলে ওর ভাল লাগার কথা , আমি ও বলে দিলাম । আর সেই থেকে শুরু হল আমাদের love story. ভালই চলছিল আমাদের ভালবাসার গল্প কাহিনি। একদিন 

ভাল থেকো আমার ভাল বাসা তোমার প্রেমিকা দের নিয়ে পার্ট ২

আম্মা আমি এখন আমার লাইফ গুছাইতে চাই। আমাকে ছেড়ে দেন। আমার সবাধীনতা টুকু নিয়ে কেন আপ্নে এরকম করবেন? আম্মা আমি লেখিকা হতে চাই আমারে শুধু শুধু ...