তোমাকেই পড়ে মনে
অনলাইনে বৃষ্টি লিখছিল, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেখে চমকে যায়। অনলাইনে ত অনেক মানুষ ই বন্ধু হয় আবার হারিয়ে যায়। কেননা অনলাইনে ফেসবুকে ফ্রেন্ড হলেও তারা আপন কেউই না। কিন্তু সেইদিন বৃষ্টির কেন যেন সেই রিকোয়েস্ট টা নিতে ইচ্ছে করল। নিল, সে দেখল ম্যান চেস্টার লেখা লোকেশান। অবাক হয় সে। এই লোক কে? ভাল করেচেক করল ১ম বার এর মত। দেখে একজন চিকিৎসক। ওকে। ফ্রেন্ড লিস্ট ও কত জনই থাকে থাকুক না।
বেশ কিছুদিন চলে যায়। বৃষ্টি একদিন কাজ না থাকায় ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ সেই বন্ধুর ফেসবুকে চলে যায়। ফেসবুকে স্ক্রল করে দেখে অনেক নারী বন্ধু চিকিৎসক এর পেইজে আছেন। ছবিটি তে তার কোন ছবি নাই আছে একটি মানুষ এর ব্রেনের ছবি যেখানে কোরানের আলো দেয়া আছে। আজব তো! আসলে ব্যাপার টা কি সেটা বুঝার চেষ্টা করে সে। সে ভাল করে খেয়াল করে প্রোফাইল টা ফেইক না। আসল কিন্তু সে বুঝতে পারে নাই আসলে কি ছিল ও বিদেশি মানুষ এর জন্য হয়ত এমন।যাইহোক সে ফেসবুক অফ করে তার কাজে ফিরবে এমন সময় মেসেজ আসে হাই।
বৃষ্টি চেয়ে থাকে মেসেজের দিকে, এর পরে বলে হাই। হাতে সময় আছে আজ সুতরাং আলাপ করে দেখি কি চায় মানুষ টি। সে মেসেজের উত্তর দেয়। বৃষ্টি এর সাথে আলাপ জমে উঠে।
সেই আলাপ যে কবে একটা অদৃশ্য ভাল বাসায় পরিবর্তন হয়ে গেছে তা বুঝে উঠার আগেই যেন সব শেষ।
২০১৯, ব্রেন টিউমার এ আক্রান্ত হয়ে গেল বৃষ্টি এর ভাল বাসার মানুষ। শেষ টা অনেক খারাপ ভাবে হয়।বৃষ্টি কে অপমান করে সেই অদৃশ্য ফেসবুকের রাতের সংগি।
সে হই যায় অদৃশ্য।
বৃষ্টি দিন নেই রাত নেই ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকে। সে নেই কো থাও নেই। ব্রিটিশ এম্বাসি তে একটা মেইল দেয় বৃষ্টি।
নেই।
২০২২।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার মিরপুর।
বৃষ্টি বসে আছে তার হোস্টেল এ। হঠাৎ কি মনে করে সে ফেসবুকে আবারো সেই অচেনা পোস্টে যায় দেখে তার সেই ভাল বাসার মানুষ একটি পোস্ট এ একটি নাম্বার দিয়েছে।
সে সেই নাম্বারে কল দেয়। তখন অন্য পাশ থেকে জানানো হয় তিনি বেচে নেই।
বৃষ্টি এর হাত পা কাপছে। ২০২০ এর করোনায় তিনি মারা গেছেন। বৃষ্টি বিশবাস করে নাই।সে বারে বারে জিগেস করছিল আসলে কি মারা গেছেন?
পাগলের মত অবস্থা হয়ে যায়। ফোন রেখে দোউরে যায় সে তার হোস্টেলের রুমে ব্যাগ গুছিয়ে চলে আসে চট্টগ্রাম। কিন্তু বাস্তবতা হল লন্ডনে তাকে কবর দেয়া হয়েছে বলে বৃষ্টি তার লাশ দেখতে পারে নাই।
ব্রিটিশ পাসপোর্ট নাই, টাকা নাই, এরকম হাই ফাই মানুষের সন্ধ্যান পাওয়া ত ৪টে খানি কথা নাহ।
এর পর
বহু বছর কেট্র যায়
বৃষ্টি তার কবিতা য় লেখে তোমাকেই পড়ে মনে।
Comments
Post a Comment