আকাশের তারা
লাশ টা দূরে ফেলে দে, তাকিয়ে বলছে আরেফিন। তোদের কাজ এত ক্ষন লাগে ফেলে দে লাশ কেউ দেখে ফেল লে আর রক্ষা নাই। ৪জনে মিলে একটি ৭ বছরের মেয়েকে রেপ করে তার লাশ টা ফেলে দেয় মেঘ্ না নদী তে। লাশের গন্ধ ভেসে আসবে এই ভেবে সেখানে দেয় কর্পুর এর সাথে আরো কি যেন মিশিয়ে।
৭দিন এর দিন লাশ ভেসে উঠে।
পুলিশের কাছে এই মুহুর্তে তেমন কোন রিপোর্ট নাই। একটা ৭ বচ্ছর এর মেয়েরে কে বা কারা লাশ বানিয়ে ফেলে দিয়ে গেছে কেউ জানে না। এরকম একটি অবস্থায় পুলিশ রিপোর্ট দেয় দুর্ঘটনা জনিত আত্ন হত্যা।
আগস্ট মাসের ভর দুপুর বেলা।সবাই ঘুম। দুপুরের কাঠ ফাটা রোদ বিচ্ছিরি লাগে।
প্রকৃতি যেন বিরুপ। যা তুমি করবে তা তুমি এই জন্মেই ফেরত পাবে। হঠাৎ ঘরের দরজায় পুলিশের কড়া নাড়ার শব্দ মনু চিৎকার দিয়ে বলে কিরে কে দরজা ধাক্কায়? পুলিশ অপর পাশ থেকে বেয় নেট দিয়ে খুচি য়ে দরজা ভেংগে ঘরে ঢুকে মনুর শার্টের কলার টেনে ধরে চিৎকার দিয়ে বলে হালার পুত জারজ সন্তান, একটি ৭ বছরের মেয়েরে ও ছাড় দিলি না হালা।তোর নিজের মেয়ের বয়স ও তো ৬ এখন। এই কথা শুনে মনুর চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেছে ততক্ষণে। মনুর বউ তাকিয়ে আছে সবামির দিকে। লোক টা মদ খায় গাজা খায় এটা তারা জান ত কিন্তু সে এরকম একটা খারাপ কাজ করবে ভাবে নাই।
পুলিশ এ জেরা আর মাইর শুরু হইসে। পাসের জেলে বসে থাকা এক কয়েদি বলছে। পুলিশ এরমাইরের ঠেলায় এই ব্যাটা কিভাবে চুপ থাকে কও? আরেক জনে উঠে কয় অই আমার হাত টিপা দে। এইসব সিন আগেও দেখসি।
আল্লাহ তুমি আমার মাইয়া রে যে মারসে তার বিচার কইরে দেও।
মৃত দেহ এরনাম শেফালী। শেফালি বেগম। সে দিনাজপুর এর বসিন্দা।ঢাকায় এসেছিল কাজের সন্ধানে এখন সে ঢাকায়
আছে কিন্তু লাশ হয়ে। মাকে বলেছিল মা আমি কাজ করে টাকা কামাই কএ নতুন ঘর তুলে দেব তোমার এ। কিন্তু বেতন বাব দ যা পেত তার বদলে লাশ হয়ে গেল।
আরেফিন ধরা পড়েছে, ইন্সপেক্টর আলী আজমের ফোনে এই বার্তা আসে। তারা দ্রুত বনানির দিকে গাড়ি সহ গিয়ে আরেফিন কে ধরে ফেলে। কোমড় এ দড়ি বাধা অবস্থায় আছে সে। তাকে দেখে মেজাজ ঠিক রাখতে না পারা কন্সটেবল শাহের মিয়া ইচ্ছা মিত লাথি কিল ঘুসি সব দেয়।
তাদের ধরে আনা হল। মনুর সামনে বসানো হল। আরেফিন তাকায় না মনুর দিকে।মনু চিৎকার দিয়ে বলে ওস্তাদ আপনেই তো আমারে মেঘনায় একটি বস্তা ফালায় দিতে কইসিলেন কিন্তু আমি ত জানতামএকটি বস্তা আছে অহন দেখু বস্তার মাঝখানে মানুষের লাশ! ওস্তাদ, এইডা কি করলেন আমার লগে? আমি মদ গাজা খায় কিন্তু মানুষ ত মারিনা।আরেফিন তাকায় না তারদিকে, অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বলে এই লোক কে? আমি তাকে চিনিনা।
ইন্সপেক্টর আলী আজমের মাথায় তখন রাগ এ গরম অবস্থা।কিন্তু তিনি অত্যন্ত শান্ত ভাবে জিগ্যেস করেন তুই কি এই মেয়েরে ধরে নিয়ে যাস নাই? মেঘ নার পাড়ে এই মেয়ে গেক কেম নে?সব সত্য বল? আরেফিন একদম শিক্ষিত ভদ্র ছেলে। সে বিনয়েরসাথে বলে আমি জানিনা স্যার।
কন্সটেবল শাহের মিয়া চিৎকার দেয় স্যার আমারে দেন। মাইরের উপর ওষুধ নাই। মাইর দিলে সব বলবে। ইন্সপেক্টর তাকায়। কিছু বলে না, এর পরে তাদের জেলে দিয়ে তারা এগোতে থাকে লাশের পোস্ট মর্টেম এর জন্য।
Comments
Post a Comment